মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন:
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
*️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও রীতিনীতি পরিচালিত হয়। অাইনের শাসনের একটি বিষয় হলো বিচারিক প্রক্রিয়া,  অাজকে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রের কিঞ্চিত মাত্র অভিমত তুলে ধরবো----
.
👉🏻প্রথমত অামাদের অাগে কিছু প্রশ্ন করা উচিত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে, যেমন----
১) সকল মানুষ কি সমান একজন রাষ্ট্র নায়কের কাছে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
২) একজন রাষ্ট্রনায়ক কি ভালোমন্দ বিচার না করেই যে কাউকে অন্যায়  শাস্তি দিতে পারে? সনাতন ধর্ম কি বলে এই সম্পর্কে?
৩) একজন রাষ্ট্র নায়ক কি সবাইকে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে? নাকি কতিপয় ব্যক্তিতে দন্ড দেবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৪) রাষ্ট্রনায়ক কি তাঁর পরিবারের সদস্য বা তাঁর মিত্রদের দন্ড দান দেয়া থেকে বিরত থাকবেন?  কি বলে সনাতন ধর্ম?
৫) রাজা কি অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৬) জ্ঞানী ব্যক্তিরা যদি অপরাধ করে এক্ষেত্রে তাদের ছাড় দেবার কোনো নিয়ম অাছে? এই বিষয় টা নিয়ে কি বলে সনাতন ধর্ম? 
৭) রাজা যদি সঠিক ভাবে দন্ড ব্যবস্থা বজায় রাখে এতে তিনি কি প্রশংসিত হবেন? নাকি নিন্দিত হবেন???
🔥১)---- একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে রাষ্ট্রের সকল প্রজাই সমান--
-তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো হমধ্যমাসেঃ মহসা বি বাবৃধুঃ।
-সুজাতাসো জনুষঃ পৃশ্নি মাতরা দিবো মর্যা আ নো অচ্ছা জিগতন।।
(ঋগ্বেদ. ৫/৫৯/৬)
★অনুবাদ★
-- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয় তাঁহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে। উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে। জন্ম হইতেই তাঁহারা কুলীন। তাঁহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য। তাঁহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।
.
উপরিউক্ত মন্ত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে সকল মনুষ্যই সমান।
.
🔥২)----- একজন রাষ্ট্রনায়ক কখনো কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তিকেই অন্যায় ভাবে শান্তি দিতে পারেননা। কারণ রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই দন্ডপ্রাপ্য ব্যক্তিকে অবশ্যই দন্ড প্রধান করা একজন ন্যায়শাসকের কর্তব্য--
-অদন্ড্যান্দন্ডয়ন্ রাজা দন্ড্যাংশ্চৈবাপ্যদন্ডয়ন্। 
-অয়শাে মহদাপ্নোতি নরকং চৈব গচ্ছতি ॥
(মনু- ৮/১২৮)
★অনুবাদ★
---যে রাজা দন্ডনীয়কে দন্ডদান করেন না, কিন্তু যে দন্ডাহ্নহে তাহাকে দন্ড দেন, তিনি জীবদ্দশায় ঘাের নিন্দা এবং মৃত্যুর পর মহাদুঃখ প্রাপ্ত হন। সুতরাং অপরাধীকে সর্বদা দন্ডদান করিবেন, নিরপরাধীকে কখনও দন্ডদান করিবেন না ॥
.
🔥৩) ------ একজন রাষ্ট্রনায়ক অবশ্যই সকল অপরাধী কে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে। যেমন ধরুন রাষ্ট্রনায়কের কোনো মিত্র দোষ করলো, শাস্ত্রের নির্দেশ মিত্রতার খাতিরে কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না, অপরাধী সে অপরাধীই, তাঁকে দন্ড দেয়া অাদর্শ রাষ্ট্রনায়কের কর্তব্য---
নমিত্ৰকারণাদ্রাজা বিপুলাদ্বা ধনাগমৎ। 
সমুৎসৃজেৎ সাহসিকান্ সর্বভূতভয়াবহা৷ ৩৪৭
- গুরুং বা বালবৃদ্ধৌ বা ব্রাহ্মণং বা বহুশ্রুত। 
-আততায়িনমায়ান্তং হন্যাদেবাবিচারয়।। ৩৫০
(মনু- ৮/৩৪৭,৩৫০)
★অনুবাদ★ 
--মিত্রতার খাতিরে অথবা প্রচুর ধনলাভের আশায় রাজা এই সকল প্রাণী পীড়ক দুবৃত্তের বন্ধন ছেদন করিয়া কখনও ছাড়িয়া দিবেন না। ৩৪৭
--গুরু হউক বা পুত্রাদি বালক, পিতা প্রভৃতি বৃদ্ধ, ব্রাহ্মণ অথবা বহুশ্রুত বিদ্বান, যে কেহ হউন
কেন, যিনি ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া অধর্মচারী হইবেন এবং বিনা অপরাধে অপরকে হত্যা করিবেন তাহাকে বিনা বিচারে বধ করিবেন। ৩৫০
.
🔥৪------ রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধান যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতা লাভ করে তখন অবশ্যই উনাকে পরিবারের মোহ ত্যাগ করতে হবে, কেননা মোহ ত্যাগ না করলে পরিবারের কেউ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে যুক্ত হলে তাঁকে দন্ড দেয়া রাজার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই মোহ ত্যাগ করে পরিবারের কেউ অপরাধ করলে তাঁকে দন্ড প্রধান করা প্রকৃত শাসকের কর্তব্য----
-পিতাচার্য্য সুহৃন্মাতা ভায়া পুত্রঃ পুরােহিতঃ। 
-নাদন্ড্যো নাম রাজ্ঞােস্তিয়ঃ স্বধর্মেনতিষ্ঠতি ॥ 
(মনু- ৮/৩৩৫)
★অনুবাদ★ 
--পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, আচাৰ্য, পুরােহিত বা মিত্র যে কেহ হউন না কেন, যিনি স্বধর্মে স্থির থাকেন না, তিনি রাজার অদণ্ড্য নহেন। অর্থাৎ যখন রাজা ন্যায়াসনে উপবিষ্ট হইয়া বিচার করেন, তখন কাহারও প্রতি পক্ষপাত না করিয়া অপরাধীকে যথােচিত দণ্ড দান করিবেন।
.
🔥৫------- প্রজারা অপরাধ করলে সেটা সাজা দিতে হবে। তাই বলে রাজা অপরাধ করলে সেটা ক্ষমার যোগ্য না, একটা অপরাধ সংঘটিত হলে একজন সাধারণ প্রজা যে দন্ড পাবে, একজন রাজা সেই অপরাধ করলে একহাজার গুন দন্ড বেশী পাবে---- 
-কার্যাপণং ভবেদ্দন্ড্যোয়ত্ৰান্যঃ প্রাকৃত জনঃ। 
-তত্র রাজা ভবেন্ড্যঃ সহস্রমিতি ধারণা ॥
(মনু- ৮/৩৩৬)
★অনুবাদ★ 
--যে অপরাধে সাধারণ লােকের এক পয়সা দণ্ড হয়, সে অপরাধে রাজার এক সহস্র পয়সা দণ্ড হইবে। অর্থাৎ জনসাধারণ অপেক্ষা রাজার সহস্র গুণ দণ্ড হওয়া উচিত।
.
🔥৬------- রাষ্ট্রের মূখ্য ভূমিকা পালন করে বুদ্ধিজীবী মহল, যারা শিক্ষায় অন্য প্রজাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে, তারা যদি অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে তবে তাদের শাস্তি বেশী দেবার কথা বলা হচ্ছে,  কেননা তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই অপরাধ করে থাকে---
-অষ্টাপাদ্যন্ত শূদ্রস্য স্তেয়ে ভবতিকিন্বিষম্। 
-যােডশৈব তু বৈশ্যস্য দ্বাত্রিংশৎ ক্ষত্রিয়স্য চ।। ৩৩৭
-ব্রাহ্মণস্য চতুঃষষ্টিঃ পূর্ণংবাপি শতং ভবেৎ।
-দ্বিগুণ বা চতুঃষষ্টিস্তদ্দোষগুণবিদ্ধিসঃ ॥ ৩৩৮
(মনু- ৮/৩৩৭-৩৩৮)
★অনুবাদ★ 
 --কিঞ্চিৎ বিবেকের সঙ্গে চুরি করিলে শূদ্রের আট গুণ, বৈশ্যের ষােল গুণ এবং ক্ষত্রিয়ের বিশ গুণ দণ্ড হইবে ৷৷ ৩৩৭
--ব্রাহ্মণের চৌষট্টি গুণ, শত গুণ বা অথবা একশত আটইশ গুণ দণ্ড হওয়া উচিত। অর্থাৎ যাহার জ্ঞান ও মর্যাদা যত অধিক, অপরাধের জন্য তাহার তত অধিক দণ্ড হওয়া আবশ্যক। ৩৩৮
.
👉🏻উক্ত বিষয়টি দেখলে পক্ষপাত মনে হতে পারে, কিন্তু মোটেও সেটা পক্ষপাতিত্ব নয়। যাদের জ্ঞান ও মর্যাদা অধিক তাদের দন্ডের পরিমান অধিক একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।  🙏🏿
.
🔥৭------- রাজা যদি রাজ্যে সঠিক দন্ড ব্যবস্থা বজায় রেখে রাজ্যব্যবস্থা ভালো ভাবে পরিচালিত করে তাহলে তিনি সর্বত্র প্রশংসিত ব্যক্তি---
-যস্য স্তেনঃ পুরে নাস্তি নান্যস্ত্রীগাে ন দুষ্টবা। 
-ন সাহসিকদণ্ডগ্লৌ স রাজা শক্ৰলােকভাক।
(মনু- ৮/৩৮৬)
★অনুবাদ★
--যে রাজ্যের রাজ্যে চোর, পরস্ত্রীগামী, কটুভাষী, দুঃসাহসী দস্যু এবং দণ্ডপ্ন অর্থাৎ রাজাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী নাই, সেই রাজাই অতীব শ্রেষ্ঠ।
.
.
✅পরিশেষে বলা যায় যে সনাতন ধর্ম মতে বিচারিক ব্যবস্থা খুবই যৌক্তিক ও তাৎপর্য্য পূর্ণ ।  
.
🔥Writer and Editor Kanchan Das🔥

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন: ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖ *️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবি...