মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন:
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
*️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও রীতিনীতি পরিচালিত হয়। অাইনের শাসনের একটি বিষয় হলো বিচারিক প্রক্রিয়া,  অাজকে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রের কিঞ্চিত মাত্র অভিমত তুলে ধরবো----
.
👉🏻প্রথমত অামাদের অাগে কিছু প্রশ্ন করা উচিত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে, যেমন----
১) সকল মানুষ কি সমান একজন রাষ্ট্র নায়কের কাছে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
২) একজন রাষ্ট্রনায়ক কি ভালোমন্দ বিচার না করেই যে কাউকে অন্যায়  শাস্তি দিতে পারে? সনাতন ধর্ম কি বলে এই সম্পর্কে?
৩) একজন রাষ্ট্র নায়ক কি সবাইকে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে? নাকি কতিপয় ব্যক্তিতে দন্ড দেবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৪) রাষ্ট্রনায়ক কি তাঁর পরিবারের সদস্য বা তাঁর মিত্রদের দন্ড দান দেয়া থেকে বিরত থাকবেন?  কি বলে সনাতন ধর্ম?
৫) রাজা কি অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৬) জ্ঞানী ব্যক্তিরা যদি অপরাধ করে এক্ষেত্রে তাদের ছাড় দেবার কোনো নিয়ম অাছে? এই বিষয় টা নিয়ে কি বলে সনাতন ধর্ম? 
৭) রাজা যদি সঠিক ভাবে দন্ড ব্যবস্থা বজায় রাখে এতে তিনি কি প্রশংসিত হবেন? নাকি নিন্দিত হবেন???
🔥১)---- একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে রাষ্ট্রের সকল প্রজাই সমান--
-তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো হমধ্যমাসেঃ মহসা বি বাবৃধুঃ।
-সুজাতাসো জনুষঃ পৃশ্নি মাতরা দিবো মর্যা আ নো অচ্ছা জিগতন।।
(ঋগ্বেদ. ৫/৫৯/৬)
★অনুবাদ★
-- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয় তাঁহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে। উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে। জন্ম হইতেই তাঁহারা কুলীন। তাঁহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য। তাঁহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।
.
উপরিউক্ত মন্ত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে সকল মনুষ্যই সমান।
.
🔥২)----- একজন রাষ্ট্রনায়ক কখনো কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তিকেই অন্যায় ভাবে শান্তি দিতে পারেননা। কারণ রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই দন্ডপ্রাপ্য ব্যক্তিকে অবশ্যই দন্ড প্রধান করা একজন ন্যায়শাসকের কর্তব্য--
-অদন্ড্যান্দন্ডয়ন্ রাজা দন্ড্যাংশ্চৈবাপ্যদন্ডয়ন্। 
-অয়শাে মহদাপ্নোতি নরকং চৈব গচ্ছতি ॥
(মনু- ৮/১২৮)
★অনুবাদ★
---যে রাজা দন্ডনীয়কে দন্ডদান করেন না, কিন্তু যে দন্ডাহ্নহে তাহাকে দন্ড দেন, তিনি জীবদ্দশায় ঘাের নিন্দা এবং মৃত্যুর পর মহাদুঃখ প্রাপ্ত হন। সুতরাং অপরাধীকে সর্বদা দন্ডদান করিবেন, নিরপরাধীকে কখনও দন্ডদান করিবেন না ॥
.
🔥৩) ------ একজন রাষ্ট্রনায়ক অবশ্যই সকল অপরাধী কে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে। যেমন ধরুন রাষ্ট্রনায়কের কোনো মিত্র দোষ করলো, শাস্ত্রের নির্দেশ মিত্রতার খাতিরে কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না, অপরাধী সে অপরাধীই, তাঁকে দন্ড দেয়া অাদর্শ রাষ্ট্রনায়কের কর্তব্য---
নমিত্ৰকারণাদ্রাজা বিপুলাদ্বা ধনাগমৎ। 
সমুৎসৃজেৎ সাহসিকান্ সর্বভূতভয়াবহা৷ ৩৪৭
- গুরুং বা বালবৃদ্ধৌ বা ব্রাহ্মণং বা বহুশ্রুত। 
-আততায়িনমায়ান্তং হন্যাদেবাবিচারয়।। ৩৫০
(মনু- ৮/৩৪৭,৩৫০)
★অনুবাদ★ 
--মিত্রতার খাতিরে অথবা প্রচুর ধনলাভের আশায় রাজা এই সকল প্রাণী পীড়ক দুবৃত্তের বন্ধন ছেদন করিয়া কখনও ছাড়িয়া দিবেন না। ৩৪৭
--গুরু হউক বা পুত্রাদি বালক, পিতা প্রভৃতি বৃদ্ধ, ব্রাহ্মণ অথবা বহুশ্রুত বিদ্বান, যে কেহ হউন
কেন, যিনি ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া অধর্মচারী হইবেন এবং বিনা অপরাধে অপরকে হত্যা করিবেন তাহাকে বিনা বিচারে বধ করিবেন। ৩৫০
.
🔥৪------ রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধান যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতা লাভ করে তখন অবশ্যই উনাকে পরিবারের মোহ ত্যাগ করতে হবে, কেননা মোহ ত্যাগ না করলে পরিবারের কেউ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে যুক্ত হলে তাঁকে দন্ড দেয়া রাজার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই মোহ ত্যাগ করে পরিবারের কেউ অপরাধ করলে তাঁকে দন্ড প্রধান করা প্রকৃত শাসকের কর্তব্য----
-পিতাচার্য্য সুহৃন্মাতা ভায়া পুত্রঃ পুরােহিতঃ। 
-নাদন্ড্যো নাম রাজ্ঞােস্তিয়ঃ স্বধর্মেনতিষ্ঠতি ॥ 
(মনু- ৮/৩৩৫)
★অনুবাদ★ 
--পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, আচাৰ্য, পুরােহিত বা মিত্র যে কেহ হউন না কেন, যিনি স্বধর্মে স্থির থাকেন না, তিনি রাজার অদণ্ড্য নহেন। অর্থাৎ যখন রাজা ন্যায়াসনে উপবিষ্ট হইয়া বিচার করেন, তখন কাহারও প্রতি পক্ষপাত না করিয়া অপরাধীকে যথােচিত দণ্ড দান করিবেন।
.
🔥৫------- প্রজারা অপরাধ করলে সেটা সাজা দিতে হবে। তাই বলে রাজা অপরাধ করলে সেটা ক্ষমার যোগ্য না, একটা অপরাধ সংঘটিত হলে একজন সাধারণ প্রজা যে দন্ড পাবে, একজন রাজা সেই অপরাধ করলে একহাজার গুন দন্ড বেশী পাবে---- 
-কার্যাপণং ভবেদ্দন্ড্যোয়ত্ৰান্যঃ প্রাকৃত জনঃ। 
-তত্র রাজা ভবেন্ড্যঃ সহস্রমিতি ধারণা ॥
(মনু- ৮/৩৩৬)
★অনুবাদ★ 
--যে অপরাধে সাধারণ লােকের এক পয়সা দণ্ড হয়, সে অপরাধে রাজার এক সহস্র পয়সা দণ্ড হইবে। অর্থাৎ জনসাধারণ অপেক্ষা রাজার সহস্র গুণ দণ্ড হওয়া উচিত।
.
🔥৬------- রাষ্ট্রের মূখ্য ভূমিকা পালন করে বুদ্ধিজীবী মহল, যারা শিক্ষায় অন্য প্রজাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে, তারা যদি অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে তবে তাদের শাস্তি বেশী দেবার কথা বলা হচ্ছে,  কেননা তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই অপরাধ করে থাকে---
-অষ্টাপাদ্যন্ত শূদ্রস্য স্তেয়ে ভবতিকিন্বিষম্। 
-যােডশৈব তু বৈশ্যস্য দ্বাত্রিংশৎ ক্ষত্রিয়স্য চ।। ৩৩৭
-ব্রাহ্মণস্য চতুঃষষ্টিঃ পূর্ণংবাপি শতং ভবেৎ।
-দ্বিগুণ বা চতুঃষষ্টিস্তদ্দোষগুণবিদ্ধিসঃ ॥ ৩৩৮
(মনু- ৮/৩৩৭-৩৩৮)
★অনুবাদ★ 
 --কিঞ্চিৎ বিবেকের সঙ্গে চুরি করিলে শূদ্রের আট গুণ, বৈশ্যের ষােল গুণ এবং ক্ষত্রিয়ের বিশ গুণ দণ্ড হইবে ৷৷ ৩৩৭
--ব্রাহ্মণের চৌষট্টি গুণ, শত গুণ বা অথবা একশত আটইশ গুণ দণ্ড হওয়া উচিত। অর্থাৎ যাহার জ্ঞান ও মর্যাদা যত অধিক, অপরাধের জন্য তাহার তত অধিক দণ্ড হওয়া আবশ্যক। ৩৩৮
.
👉🏻উক্ত বিষয়টি দেখলে পক্ষপাত মনে হতে পারে, কিন্তু মোটেও সেটা পক্ষপাতিত্ব নয়। যাদের জ্ঞান ও মর্যাদা অধিক তাদের দন্ডের পরিমান অধিক একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।  🙏🏿
.
🔥৭------- রাজা যদি রাজ্যে সঠিক দন্ড ব্যবস্থা বজায় রেখে রাজ্যব্যবস্থা ভালো ভাবে পরিচালিত করে তাহলে তিনি সর্বত্র প্রশংসিত ব্যক্তি---
-যস্য স্তেনঃ পুরে নাস্তি নান্যস্ত্রীগাে ন দুষ্টবা। 
-ন সাহসিকদণ্ডগ্লৌ স রাজা শক্ৰলােকভাক।
(মনু- ৮/৩৮৬)
★অনুবাদ★
--যে রাজ্যের রাজ্যে চোর, পরস্ত্রীগামী, কটুভাষী, দুঃসাহসী দস্যু এবং দণ্ডপ্ন অর্থাৎ রাজাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী নাই, সেই রাজাই অতীব শ্রেষ্ঠ।
.
.
✅পরিশেষে বলা যায় যে সনাতন ধর্ম মতে বিচারিক ব্যবস্থা খুবই যৌক্তিক ও তাৎপর্য্য পূর্ণ ।  
.
🔥Writer and Editor Kanchan Das🔥

কল্কি অবতার ও একটি ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ

★বিগত কয়েক বছর ধরে দেখছি ইসলামি পন্ডিতগন বেদে মুহাম্মদ(সা:) আছেন বলে হিন্দুদের সু-কৌশলে ইসলাম গ্রহনের আহ্বান করছেন।আর না জেনে সেই ফাঁদে অনেকেই পা বাড়িয়েছেন।
তাঁরা কল্কিদেব এর সাথে মুহাম্মদ(সা:) সাদৃশ্য ঘটিয়েছেন,যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডা:জাকির নায়েক।

→মুসলিমদের ভাষ্যমতে সনাতন ধর্ম কোন
গ্রন্থ না এবং বেদ -গীতাও নাকি ঈশ্বরের ঐশী বানি না,অথচ যখন কল্কির কথা বলা হয় তখন নির্লজ্জের মত মুহাম্মদ(সা:) কে মিলিয়ে ধরে,আর এই অপপ্রচার কারীর মূল হোতা হচ্ছেন জাকির নায়েক।তাই
জাকির নায়েককে নিয়ে আবার হাজির হলাম।

→আমি দেখি আমাদের ধর্মে বর্ণিত কলিযুগের শেষ অবতার কল্কি অবতারের
ভবিষ্যত বাণী নিয়ে অনেক সুযোগ
সন্ধানী অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাকির নায়েক ইসলাম ধর্মের শেষ নবী
মোহম্মদ (সাঃ)কে দাবী করছেন আমাদের কল্কি অবতার হিসেবে। জাকির নায়েক তার
যুক্তি দেখাতেই পারেন, তার মুসলিম অনুসারীগণ
আবার এতে নেচে উঠতেই পারে। কিন্তু আমি
ব্যক্তিগতভাবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ
করে দেখি ওরা কি ঠিক পথেই হাটছে কি না??
.
১।জাকির নায়েক কিন্তু প্রতিবার
দাবী করে এসেছেন যে, হিন্দুদের মূল
ধর্মগ্রন্থ বেদ। প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি বেদ ছাড়া
অন্য গ্রন্থকে স্বীকার করতে নারাজ। আমাদের
জন্মান্তরবাদকে অস্বীকার করার
জন্য তিনি পূণর্জন্মের ইস্যুতে কেবল বেদকেই
মূল্য দেন, গীতা কিংবা পূরানকে মূল্যই দেননি বা
নির্ভর করেন নি, বিশ্বাসও করেন নি।
কিন্তু মোহম্মদকে কল্কি অবতার প্রমাণের
ক্ষেত্রে পূরাণের উপর তার
এতো নির্ভর্শীলতা কেন???
এটা কি ইসলামবিরোধী আচরণ নয়?
কারণ কোরান
মুসলিমদের বারবার বলেছে, কোরানের আগের
সকল কিতাবই নাকি সম্পূর্ণ বিকৃত, তাই এইসব গ্রন্থ
থেকে মুসলিমদের বিভ্রান্ত হতে কোরান বারবার
নিষেধ করেছে!!! তবুও ইসলামিক
থিওরী অনুযায়ী এইসকল বিকৃত গ্রন্থের উপর
নির্ভর্শীলতা/বিশ্বাস স্থাপন কি তার ইসলাম বিরোধী
আচরণ নয়?
.
২। এখন আমরা দেখি জাকির নায়েক ইসলামিক থিওরী
অনুযায়ী বিকৃতহিন্দুধর্মগ্রন্থ বেদ এর উপর বিশ্বাস
স্থাপন করে ইসলামের সম্মান বাড়িয়ে দিলেন নাকি
কমিয়ে দিলেন!! “বেদ” এ তিনি কিন্তু
মোহম্মদের নাম সরাসরি খুঁজে পান নাই। কেবল
উপমা ব্যবহার করেছেন। তার জন্য মোটামুটি
বিশ্বাসযোগ্য মন্ত্র হল "অথর্ব "বেদ
এর ২০/১২১/১-৩ নম্বর মন্ত্র।
এই মন্ত্রে তিনি নানান উপমাকে মোহম্মদের
বিভিন্ন পারিপার্শিক বিষয়ের সাথে তুলনা করে(যেমন
১০০ স্বর্ণমূদ্রার সাথে মোহম্মদের ১০০ সাথীর
তুলনা, ১০ টি হারের সাথে ১০ জন সাহাবীর তুলনা,
১০০০০ গাভীর সাথে ১০০০০ সৈন্যের যুদ্ধে যাবার
হাস্যকর তুলনা করে) তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা
করেছেন যে মোহম্মদ বেদ এ আছেন
(উটের রথের প্রসঙ্গ নাই বা বললাম)। কিন্তু আমি
যুক্তিতে(আমাকে আবার এক বস্তা যুক্তি ভাববেন না)
বিশ্বাসী। এইরকম উপমা নিয়ে গবেষণা করলে
আমার তো মনে হয় বেদ এ আমাকে খুঁজে
পাওয়াও অসম্ভব হবে না(ভগবান ক্ষমা করুন)!!! তাই
উপমাগুলো বাদ দিলে মন্ত্রের মধ্যে একটাই
নির্ভরযোগ্য শব্দ পাওয়া যায় যেটা কেবল অর্থগত
সাদৃশ্যের দিক থেকে মোহম্মদের নামের
সাথে মিলে যায়(জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যিনি এখানে আরবী এবং সংস্কৃত
অর্থকে এক করেছেন)।
সেই শব্দটি হল 'নরাশংস'। 'নরাশংস' শব্দ 'নর' এবং
'আশংস'
এই দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত । নরের অর্থ মানুষ
এবং আশংস শব্দের অর্থ প্রশংসিত (জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী) ।
মানে নরাশংস শব্দের অর্থ হল
যিনি প্রশংসিত(জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী)। আরবি মোহম্মদ নামের অর্থও
নাকি যিনি প্রশংসিত। দুই অর্থ যেহেতু এক, তাই মুহম্মদ
নাকি বেদ এ আছেন।
তাহলে এই অর্থের সাদৃশ্যের
ভিত্তিতে মোহম্মদকে বেদ এ অন্তর্ভুক্ত করার
চেষ্টা করেছেন জাকির নায়েক।
.
এদিকে কংগ্রেসও নাকি জাকির নায়েকের দাবির সূত্র
ধরে দাবী তুলেছে বেদ এ সোনিয়া গান্ধীর
নামও উল্লেখ আছে(ভগবান ক্ষমা করুন)!!
.
কারণ বেদ এ “সুবর্ণা” শব্দটি আছে যার অর্থ
সোনা, আবার সোনিয়া শব্দের অর্থও সোনা!!
জাকির নায়েকের দাবিকে মেনে নিলে
কংগ্রেসের দাবি কি দোষ করল? এটা কি একটা
হাস্যকর
পরিস্থিতি নয়? .
আপনারা কেউ আবার নিজেকে বেদ
এ কেবল নামের অর্থের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে
নিজের নাম খুঁজতে যাইয়েন না।
.
৩। 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এই আরবি বাক্যের অর্থ,
সকল প্রশংসা আল্লার জন্য। আবার 'দয়ানন্দ কি জয়' এই
বাক্যের
মানেও সকল প্রশংসা দয়ানন্দের জন্য। যেহেতু ২
টি বাক্যের একই মানে, তাই জাকির নায়েকের ঐ
“উপমা তত্বের” ভিত্তিতে আমিও
কি দাবী করতে পারি না 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এই
কথা বলতে কোরানে আসলে দয়ানন্দ নামক
কোনো ব্যক্তির ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে???
**কতোটা বিশ্বাসযোগ্য হবে আমার দাবী?
তাহলে জাকির নায়েকের দাবীই
বা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য?
.
৪। এখন আসি আসল কথায়। জাকির নায়েক নবীকে
হিন্দুদের অবতার বানানোর চেষ্টা করলেন, মানে
তিনি হিন্দুদের অবতারবাদে বিশ্বাস করলেন, মানে
তিনি কূর্ম অবতার, বুদ্ধ অবতার, বরাহ
অবতার প্রভৃতিকে মেনে নিলেন, কারণ এগুলো
অবতারের পরেই না কল্কি অবতারের আগমন।
অবতারবাদকে মেনে নিলেন বিধায়
তিনি ভাগবত গীতায় বিশ্বাস করলেন।
ভাগবতগীতায় বিশ্বাস করলেন বিধায় তিনি
জন্মান্তরবাদকেও মেনে নিলেন,
কারণ ভাগবত গীতায়:-- “অবতারবাদ” এবং “জন্মান্তরবাদ”
সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
জাকির নায়েক তাহলে জন্মান্তরবাদেও বিশ্বাস করে
ফেললেন! ইসলাম বিরোধী এইসব কাজ করে
ইসলামের সম্মান
কি তিনি বৃদ্ধি করলেন? আর তাকে নিয়েই ওনার
ভক্তদের কি উল্লাস!!
.
৫। এখন ইসলাম নিয়ে কিছু কথা। ইসলামের মূলনীতি
হল “আল্লা ছাড়া উপাস্য নেই এবং মুহম্মদ তার রাসূল”
এই কথায় যে বিশ্বাস
করবে সেই কেবল মুসলিম, নইলে সে নয়।
ইসলামে গরু কিংবা উট কোরবাণী দেওয়ার বিধান
আছে।
ইসলামে অবিশ্বাসীদেরকে হত্যা করার বিধান
আছে। এইগুলোর কোনটাই কি সনাতন ধর্মের
সাথে মেলে????
.
আমাদের কোনো অবতার কি নতুন কোনো
ধর্মমতের প্রচার করেছেন?? .
পুরোনো সব
নিয়মকে একেবারে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন?
গো-মাংস আহারে উতসাহিত করেছেন (ভগবান ক্ষমা
করুন)!!
কেউ কি স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীতে
হেটেছেন, অথচ মুহম্মদ সনাতন ধর্মের
আদর্শগত প্রাগৈতিহাসিক
স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হেটেছেন!!
.
এখন প্রশ্ন হচ্ছে:----
ক) সনাতন ধর্মে কোনো অবতার মত প্রকাশের
স্বাধীনতা হরণ করেছেন?
খ) নাস্তিককে কতল করার নির্দেষ সনাতন ধর্মের
কোনো অবতার
দিয়েছেন?
গ) সনাতন ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যার বিধান কোনো
অবতার দিয়েছেন?
সর্বোপরি, সনাতন ধর্ম অনুযায়ী দশটি প্রধান অবতার
হচ্ছে স্বয়ং ভগবানের অবতার। তার মানে দশ
অবতারের শেষ অবতার কল্কি অবতাররুপে স্বয়ং
ভগবান অবতরণ
করবেন পৃথিবীতে। কোন সাহসে জাকির নায়েক
মুহম্মদকে কল্কি অবতার বানিয়ে দিলেন? কারণ অন্য
অবতারের মত কল্কি অবতারও স্বয়ং ভগবান, তিনি
কোনো বার্তা বাহক নন।
তাহলে জাকির নায়েকের
যুক্তি অনুযায়ী মুহম্মদ কল্কি অবতার
হলে মুহম্মদই স্বয়ং স্রষ্টা হয়ে যাচ্ছে!!! জাকির
নায়েকের এই
স্পর্ধাকে মুসলিমরা কেমনে ক্ষমা করে দিল?
.
৬। ভবিষ্য পুরাণে মুহম্মদ নামক কারও ভবিষ্যত বাণী
থাকলেও থাকতে পারে, কারণ সেখানে নাকি সম্রাট
অশোক, চন্দ্রগুপ্ত,
মাধবাচার্য প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গের ভবিষ্যত বাণী
দেওয়া আছে। কিন্তু তাদের কারও অনুসারীগণ
তো তাদের নেতাকে নিয়ে এইরকম উদ্ভট দাবী
করে নি।
তাহলে মুহম্মদের অনুসারীদের
এতো বাড়াবাড়ি করার কোনো কারণই দেখি না।
.
৭।ভাগবত পুরাণে দশটিসহ আরও বেশ কয়েকটি
অবতারের বর্ণনা সুন্দরভাবে বর্ণনা করা আছে।
কল্কি অবতার সম্বন্ধে বলা আছে যে
“অতঃপর দুইযুগের(কলিযুগ এবং সত্যযুগের)
সন্ধিক্ষণে ভগবান কল্কি অবতার রুপে বিষ্ণুযশ নামক
ব্যক্তির পুত্র হিসেবে জন্ম গ্রহণ করবেন। ঐ
সময় পৃথিবীর প্রায় সমস্ত শাসক অধঃপতিত হয়ে
লুটেরা ও ডাকাতের পর্যায়ে নেমে যাবে।”-
(ভাগবতপুরাণ-১/৩/২৫)
এর অর্থ হল ভগবান এই কলিযুগের শেষের দিকে
“কল্কি অবতার” হিসেবে আবির্ভুত
হবেন। তিনি অসাধু লোকদের বিনাশ করে দায়িত্ব
শেষ করার পর খুব কম সংখ্যক লোক বেঁচে
থাকবে, যারা সৎ এবং ধার্মিক।
“কল্কি অবতারের পর এই পৃথিবীতে আবার সত্যযুগ
শুরু হবে।” সনাতন ধর্ম অনুযায়ী কলি যুগের
সময়কাল হল ৪,৩২,০০০ বছর। এখন কেবল ৫,০০০
বছর চলছে।তার
মানে কল্কি অবতারের জন্ম গ্রহণ
করতে এখনও অনেক দেরি!! আফসোস!!!!
.
৮।কল্কি পুরাণ ২-১৬ কল্কি অবতারের জন্মের পর
মহাস্বস্থি
তার র্নাস হিসেবে নিয়োগ হন,আম্বিকা তার নাড়ি
(Umbilical Cord)কাটেন এবং সাবিত্রি তার গঙ্গাজল
দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করে দেন। মুহাম্মদের
জন্মের
সময় এরা কি উপস্থিত ছিলেন? তার কি শরীর গঙ্গাজল
দিয়ে
ধোয়া হয়েছিল? কোনটাই নয়।
মুহাম্মদ কাসিম নানোত্বি,মীর্জা গুলাম
আহমদ,বাহাউল্লাহ এর মত বিশ্বখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিতরাও
তো কোরান-হাদিসে নাকি নবী হিসেবে
শ্রীকৃষ্ণের কথা খুঁজে পেয়েছিলেন,মীর্জা
গুলাম তো বলেই বসেছিলেন, "আমি একথা
পরিস্কারভাবে বলতে চাই যে শ্রীকৃষ্ণ একজন
দূর্লভ মহাত্মা।তিনি একজন নবী যিনি ঈশ্বরের
নির্দেশে নেমে এসেছেন,তিনি ঈশ্বর থেকে
এসেছেন,তিনি ছিলেন জয়ী ও যশবান।তিনি
আর্যদের ভূমি থেকে পাপ দুর করেছেন,তাঁর
ছিল ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ ভালবাসা।তিনি ছিলেন সৎ এর
সহচর ও শয়তানের শত্রু।"
টাইমস অব ইণ্ডিয়া তে কাশিম রশিদ লিখেছিলেন,
“নবী মুহাম্মদ বলেছেন,ভারতে একজন আল্লাহর
নবী ছিলেন যার গায়ের রঙ ছিল কালো এবং তাঁর নাম
ছিল কাহান
(কৃষ্ণ)”
(History of Hamadan Dailmi Chapter Al- Kaaf)
এখন মুসলিমরা কি শ্রীকৃষ্ণকে নবী মানতে
প্রস্তুত??
অনেকেই হয়ত বলতে পারেন পৃথিবীতে
আরো অনেক নবী
এসেছেন হতে পারে শ্রীকৃষ্ণ তেমন কেউ
ছিলেন।এখন কথা
হচ্ছে সর্ম্পূণ মহাভারত জুড়ে কোথাও কিন্তু
শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে নবী হিসেবে বলেন নি বরং
হিন্দু ধর্মে নবী বা প্রেরীত রসূল বলে কিছু মানা
হয় না।এমনকি শ্রীকৃষ্ণ নিজেও কোথাও বলেননি
যে তার পর অণ্য কোন ব্যক্তি আসবে ঈশ্বরের
প্রেরিত কোন মানুষ হিসেবে বরং গীতায় (৪.৭-৮)
তিনি বলেছেন ধর্ম রক্ষার জন্য এবং সাধুদের
পরিত্রানের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হবেন
বা জন্ম নিবেন। এখন মুসলিমরা কি পূর্ণজন্ম ত্বত্ত
মানতে প্রস্তুত এবং শ্রীকৃষ্ণকে নবী মানতে
প্রস্তুত ?? মুসলিম পন্ডিতই কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে
নবী মেনেছেন এখন সমস্ত মুসলিমরা কি
মানবেন??
এখন আসা যাক সব থেকে মজার এবং হাস্যকর বিষয়
নিয়ে..
র্মীর্জা গোলাম আহমেদ সবার প্রথমে
মুহাম্মদে কল্কি পুরাণে এবং বেদে আছে বলে
দাবী করেন যেখান থেকেই জাকির নায়েক কপি
পেষ্ট করেছেন।এই র্মীর্জা গোলাম আহমেদ
আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তা যাকে কিন্তু
বেশীরভাগ
মুসলিমই কাফের বলে ঘোষনা দিয়েছেন।
আহমেদিয়া সমপ্রদায়েরা র্মীর্জা গোলাম
আহমেদকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানে।
এখন এই ইসলামিক পন্ডিতের কথা কি
আহমেদিয়া ব্যতিত কোন মুসলিম মেনে
নেবেন??কারন এখানেতো তাদেরই এক মুসলিম
পন্ডিত ঘোষনা করেছেন তাহলে তাদের মানতে
অসুবিধা কোথায় যদি শিরক বলে মানতে না চায় তবে
কেনইবা জাকির নায়েক বা অন্যরা সেই ব্যক্তির
লেখা বই পড়ে পুরাণ বেদে নবীর ভবিষ্যত
বাণী করা
আছে বলে দাবী করে!!অনেকে আবার বলে
যে কোথাকার
কোন হিন্দু পন্ডিত নাকি বলেছে পুরাণ বেদে
মুহাম্মদের কথা
আছে তাই হিন্দুদেরকে এটা মানা উচিত!! যদি কোন
এক হিন্দু পন্ডিতের কথাই মানতে বলেন তাহলে
তারাও কি মুহাম্মদ শেষ নবী নয় র্মীর্জা গোলাম
আহমেদ শেষ নবী এটা মেনে নেবেন কারন
এটাওতো তাদেরই পন্ডিত বলেছেন।!
এটা পরিষ্কার যে জাকির নায়েক বা অন্য কেউ তা
কোনদিনই মানবেন না বরং শিরক বলে দাবী
করবেন তাহলে ওই ব্যক্তির লেখা বই কপি পেষ্ট
কেন করছেন??
৯।আর বলা আছে তার বাবার হবে বিষ্ণুযশ যার অর্থ
সৃষ্টিকর্তার গোলাম।অপরদিকে নবী মুহাম্মদ এর
পিতার নাম আব্দুল্লাহ শব্দের অর্থও সৃষ্টিকর্তার
গোলাম!
ব্যাকরণে অতি দুর্বলতার লক্ষন হল এটি।বিষ্ণুযশ
শব্দের অর্থ "ঈশ্বরের মহিমা",সৃষ্টিকর্তার গোলাম
নয়।এছাড়া পদ্ম পুরাণ,সৃষ্টিখণ্ড (৬.২৪২.৮-১২) তে
বর্ণিত আছে
বিষ্ণুযশ প্রথমে স্বয়ম্ভু মনু(প্রথম সৃষ্ট মানুষ)
রুপে জন্ম গ্রহন করেছিলেন যিনি কঠোর
তপোস্যা করে ঈশ্বরের কাছ থেকে বর(ইচ্ছা)
প্রার্থনা করেছিলেন ঈশ্বর যেন তার পুত্র
রুপে আবির্ভুত হন। ঈশ্বর তাঁকে কথা দিয়েছিলেন
তিনি ৩ বার তাঁর পুত্র রুপে অবতীর্ণ হবেন
পরবর্তীতে দশরথ রুপে স্বয়ম্ভু মনু জন্ম গ্রহন
করেন এবং ঈশ্বর রাম রুপে তাঁর ঘরে অবতীর্ণ
হন তারপরে স্বয়ম্ভু মনু বাসুদেব রুপে জন্ম গ্রহন
করেন তখন ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ রুপে তাঁর ঘরে
অবতীর্ণ
হন এবং সর্বশেষে স্বয়ম্ভু মনু কলিযুগের শেষে
বিষ্ণুযশ রুপে
জন্ম গ্রহন করবেন এবং ঈশ্বর তখন তাঁর ঘরে
অবতীর্ণ হবেন।অপরদিকে মুসলিমরা তো
জন্মান্তরবাদেই বিশ্বাসী নন!সুতরাং মুহাম্মদকে কল্কি
অবতারের সাথে মেলাতে হলে আব্দুল্লাহকেও
স্বয়ম্ভু মনুর মতই তিনবার পুনর্জন্ম নিতে
হয় যে!
১০।কল্কি পুরাণ (৩৩.২০-২৬) অনুযায়ী সর্বশক্তিমান
ঈশ্বর সমস্ত যুদ্ধ শেষ করে পৃথিবীকে পাপমুক্ত
করে যখন বিদায় নেবেন তখন তিনি হিমালয় পর্বতে
তার চতুর্ভুজ রুপ (শঙ্খ,চক্র,পদ্ম,গদা সহ চার হত সহ
রুপ)ধারনপূর্বক গভীর ধ্যানে মগ্ন হবেন।সহস্র
সূর্যের ন্যায়
আলোকজ্জল হবে তার দেহ,দেবতারা পুপষ্পবৃষ্টি
করবেন।
তার দুই স্ত্রীও এই ঘটনার স্বাক্ষী হবে।
এখন কথা হচ্ছে মুহাম্মদকে কি মুসলিমরা ঈশ্বর
হিসেবে মানে?তার কি চতুর্ভজ রুপ আছে যেরকম
বিষ্ণুর রুপের বর্ণনা বিভিন্ন পুরাণে আছে?
কোন মুসলিমরাই এই কথা
মানবে না।সুতরাংমুহাম্মদ আর কল্কি অবতারকে এক
মনে
করা বোকামী ছাড়া আর কিছুই না।
আমার ব্যক্তিগত মত হল, মুহম্মদকে (সাঃ) ইসলাম নামক
ধর্মের একজন বার্তাবাহক
এবং মুসলিম জাতির নিকট তিনি নবীরাসূল। তাঁকে
হিন্দুদের কল্কি অবতার বানাতে গিয়ে জাকির নায়েক
ইসলাম বিরোধী অনেক কাজ করেছেন এবং
অনেক
কিছুর উপর নির্ভর বা বিশ্বাস স্থাপন
করেছেন ইসলামিক দৃষ্টিতে যাকে বলা হয় “শিরক”।
আর অন্যদের
দৃষ্টিতে যা অতি হাস্যকর!!

Writer and Editor Kanchan Das

সনাতন ধর্মে মদ্যপান করা কি বৈধ?

বিভিন্ন নাইট ক্লাব অার পুজোর সময় মদপান করাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধর্মীদের থেকে অামাদের ধুয়ো শুনতে হয়।

ধুয়ো শুনার জন্য মূলত অামরা নিজেরাই দায়ী, কারণ দেব বিগ্রহের স্থান অতি পবিত্র।
সেই পবিত্র স্থানেই অামরা মদপান করি অার অশ্লীল গানে নাচানাচি করি।
যার কারণে জেনেশুনে গালি কিংবা ধুয়ো শুনার ভাগীদার হয়ে যায়।
যা হোক সেই মদপান বা নেশাজাতীয় সনাতন ধর্ম সম্মত কিনা?
কিংবা তা অামাদের ধর্মে বৈধ কি না তা অবশ্যই অামাদের জানা দরকার।
অাসুন দেখি সেই সম্পর্কে অামাদের বৈদিক সংহিতা অার পবিত্র বেদ কি বলে?
পবিত্র ঋগবেদ ৮/২১/১৪ তে বলা হয়েছে---

(বাংলা সংস্কৃত)
নকী রেবন্তঃ সখ্যায়া বিন্দসে পীয়ন্তি তে সুরস্বঃ।
য়দা কুয়োসি নদানু সমূহস্যাদিত পিতেব হূয়সে।।

(হিন্দি সংস্কৃত)
नकी रेवन्तं सख्याय विन्दसे पीयन्ति ते सुराश्वः ।
यदा कृणोषि नदनुं समूहस्यादित्पितेव हूयसे ॥

★বঙ্গানুবাদ-তোমার নেশাকারী সঙ্গী/বন্ধু যদি সবচেয়ে বিদ্বান বা ধনীও হয় তারপরও বজ্রপাততূল্য এবং অবশ্য পরিত্যজ্য।

এখানে উক্ত মন্ত্র অনুসারে বুঝা যাচ্ছে নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি ধনী কিংবা বিদ্ধান হলেও তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।

-

সুতরাং মদপান নিষিদ্ধ সনাতন ধর্মে।

Writer and Editor  Kanchan Das

সনাতন ধর্ম

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখতে কেমন ছিলেন?- মহাভারতের আলোকে জানুন

‎" শ্রীকৃষ্ণ" এই নামটি শুনতে যেমন শ্রুতিমধুর তেমনি এই নামধারীর দর্শনও চক্ষুদ্বয়কে আনন্দ দিতো। আর তাই তো হস্তিনাপুরে শ্রীকৃষ্ণ যখন যুদ্ধের বদলে সন্ধি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসবেন এমন সংবাদ রাজা ধৃতরাষ্ট্র পেয়েছিলেন তখন তিনি পরম আনন্দে বলেছিলেন-

‎‎চক্ষুষ্মতাং বৈ স্পৃহয়ামি সঞ্জয়! দ্রক্ষ্যন্তি যে বাসুদেবং সমীপে।
‎‎বিভ্রাজমানাং বপুষা পরেণ প্রকাশয়ন্তং প্রদিশা দিশশু ॥৬২॥
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৬৬/৬২]

‎‎=> (ধৃতরাষ্ট্র): হে সঞ্জয়! যারা শ্রীকৃষ্ণকে অতি নিকট থেকে দর্শন করবেন আমি সেই দর্শনার্থীদের সৌভাগ্য কামনা করি। কারণ শ্রীকৃষ্ণ পরমসুন্দর দেহ দ্বারা বিরাজিত এবং নিজের কান্তি দ্বারা তিনি দ্বিগ্বিদিক আলোকিত করবেন।

‎‎রাজা ধৃতরাষ্ট্র কেবল এতটুকু বলেই ক্ষান্ত ছিলেন না। তিনি ঘোষণা করলেন-

‎‎সন্ত্রীপুরুষ বালঞ্চ নগরং মধুসূদনম্। উদীক্ষতাং মহাত্মানং ভামনুস্তমিব প্রজা॥১৭৷
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৮০/১৭]

‎‎=> (ধৃতরাষ্ট্র): মানুষ যেমন সূর্যকে দর্শন করে তেমনি নগরের স্ত্রী, পুরুষ, বালকেরা শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করুক।

‎‎তাই শ্রীকৃষ্ণ যেদিন হস্তিনাপুরে এসেছিলেন সেদিন একটিবার তাঁর দর্শন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সকল প্রজা গৃহ ছেড়ে রাজপথে ভিড় করেছিল।

‎‎ন চ কশ্চিদ্‌ গৃহে রাজংস্তদাসীন্তরতর্ষভ।
‎নস্ত্রী ন বৃদ্ধো ন শিশুর্বাসুদেবদিদৃক্ষয়া ॥৮॥ [উদ্যোগ পর্ব -৮২/৮]

‎‎না। শ্রীকৃষ্ণ যখন হস্তিনাপুরে প্রবেশ করলেন তখন তাঁকে দেখবার ইচ্ছায় বালক, বৃদ্ধ, স্ত্রী কেউই আর ঘরের ভিতর ছিল

‎‎কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য এতো উৎসুক কেন ছিল সবাই? সত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী যারা তাদের কাছে এপ্রশ্ন বাহুল্য মাত্র। যোগেশ্বরের রূপসৌন্দর্যের বর্ণনা শ্রবণ করলে আমার পূর্বোক্ত কথার যথার্থতা উপলব্ধি করতে আপনাদের কষ্ট হবে না। শ্লোকাংশ ও শ্লোক উদ্ধৃত করা হলো:

‎‎কৃষ্ণমায়ন্তং প্রসন্নাদিত্যাবর্চ্চসম্।

‎‎শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন সূর্যের ন্যায় প্রসন্ন নির্মল তেজযুক্ত। [উদ্যোগ পর্ব ৮৩/২]

‎‎উদ্যন্মেঘস্বনঃ কালে প্রগৃহ্য বিপুলং ভুজম্।

‎‎শ্রীকৃষ্ণের স্বর ছিল সজল মেঘের ন্যায় অথচ গম্ভীর ধ্বনিযুক্ত। তাঁর ভূজন্বয় ছিল বিশাল।
‎‎[উদ্যোগ পর্ব ৮৪/১৭]


‎বাক্যমভ্যাদদে কৃষ্ণঃ সুদংষ্ট্রো দুন্দুভিস্বনঃ

‎‎সুন্দরদম্ভশালী ও দুন্দুভির ন্যায় মধুরধ্বনি যুক্ত শ্রীকৃষ্ণ সভামধ্যে কথা বলতে শুরু করলেন।
‎‎[উদ্যোগ পর্ব- ৮৮/১]

‎‎রাজীবনেত্রঃ

‎‎শ্রীকৃষ্ণের চক্ষুদ্বয় ছিল পদ্মের ন্যায়।
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৮৪/১৮]

‎‎অতসীপুষ্পসংকাশঃ পীতবাসা জনার্দনঃ।

‎‎ব্যরাজত সভামধ্যে হেন্নীবোপহিতো মণিঃ ॥৬৫॥

‎‎=>(নীল) অতসীপুষ্পের ন্যায় নীল বর্ণযুক্ত, পীতবর্ণের বস্ত্রপরিহিত শ্রীকৃষ্ণ যেন সভামধ্যে স্বর্ণের উপরে সংস্থাপিত ইন্দ্রনীলমণির ন্যায় শোভা পাচ্ছিলেন।

‎‎[উদ্যোগ পর্ব ৮৭/৬৫]

‎‎অবশ্য মহাভারতের আরেকটি স্কুলে পাওয়া যায়-

‎‎কৃষ্ণবর্ণশ্চ মে যম্মাত্তস্মাৎ কৃষ্ণোহহমৰ্জ্জুনম

‎‎-> (শ্রীকৃষ্ণ): "যেহেতু আমার কৃষ্ণবর্ণ সেহেতু আমি কৃষ্ণ।"

‎‎[শান্তিপর্ব - ৩২৮/২৬৫, স্বয়ং বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বিধায় এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য যে শ্রীকৃষ্ণ শ্যাম বর্ণের।]

‎যার এমন শ্যাম গাত্রবর্ণ, স্নিগ্ধ অঙ্গকান্তি অথচ তা রৌদ্রজ্বোল, যার কণ্ঠ বর্ষার মেঘের ন্যায় গম্ভীর, দৃপ্ত অথচ শ্রুতিমধুর, যার ব্যক্তিত্বের কাছে পর্বতমালাও ধূলিকণাসম অথচ সারল্য কোনো এক অনন্তকালের বাল্যবন্ধুর মতো, এমনকি চিত্তবিভ্রান্ত শত্রুকেও যিনি পরম স্নেহপূর্বক ধর্মমার্গে চলার উপদেশ দেন সেই যোগেশ্বরের সাথে কোনো এক কল্পে বা জন্মান্তরে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য হবে কি?

‎সন্দর্ভ- মহাভারত: হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ

‎‎বাংলাদেশ অগ্নিবীর
‎সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক।

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪

শৌচকার্য করার পর কি করা উচিত??

✅প্রশ্ন---- হিন্দু ধর্মে শৌচকার্য করার অাগে ও পরে কি কি করতে হবে এই ব্যপারে কোন গাইড লাইন অাছে কি না?
______________________________________
✅উত্তর---- প্রশ্নটি শুনে হয়তো অনেকে হাসবেন, অাসলে এসব খুটিনাটি বিষয় নিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা অাপনাকে খোঁচা দিতে কিন্তু দুইবার ভাববেনা, তাই এসব বিষয়ে জানা অামার অবশ্য কর্তব্য। 🙏🏿
প্রথমত অামাদের জানতে হবে যে কোন জাতীয় স্থানে শৌচকার্য করতে নেই। এই সম্পর্কিত নির্দেশ নিম্নরুপ---
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৫
→নান্নমদ্যাদেকবাসা ন নগ্নঃ স্নানমাচরেৎ।
→ন মূত্রং পতি কুর্ব্বীত ন ভস্মনি ন গোব্রজে।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
--- এক বস্ত্র পরিধান করিয়া ভোজন করিবেনা। উলঙ্গ হইয়া স্নান করিবেনা, পথিমধ্যে বা ভস্মে বা গোষ্টে (গো-চারণ ভূমিতে) প্রস্রাবাদি পরিত্যাগ করিবেনা।
.
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৬
→ন ফালকৃষ্টে ন জলে ন চিত্যাং ন পর্ব্বতে।
→ন জীর্ণদেবতায়নে ন বল্মাকে কদাচন।
.
*বঙ্গানুবাদ*
---- ফাল দ্বারা বিদারিত ভূমিতে, জলেতে, চিতাতে, পর্ব্বতে, ভগ্নদেবগৃহ এবং বল্মীক স্থানে কখনো কোনমতেই মল ত্যাগ করিবেনা।
.
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৭
→ন সসত্ত্বেষু গর্ত্তেষু ন গচ্ছান্নাপি চ স্থিতঃ।
→ ন নদীতীরমাসাদ্য ন চ পর্ব্বত মস্তকে।
.
*বঙ্গানুবাদ*
---- সর্পাদির গর্তে বা গমন করিতে করিতে বা দন্ডায়মান থাকিয়া বা নদীতীরে বা পর্ব্বতের শিখরদেশে মলমূত্র পরিত্যাগ করিবেনা। অত্যন্ত অার্ত্ত ব্যক্তি কখন কখন শৃঙ্গ ব্যতিরিক্ত পর্ব্বত প্রদেশে মলাদি ত্যাগ করিতে পারে।
.
→এবার দেখে নিতে হবে শৌচকার্য করার পর কীভাবে শুদ্ধ হইবে---
.
👉🏻মনুস্মৃতি- ৫/১৩৬
একা লিঙ্গে গুহ্যে তিস্রন্তথৈকত্র করে দশ।
→উভয়ো সপ্ত দাতব্যা মৃদঃ শুদ্ধিমভীপ্সতা।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
----- বিষ্টামূত্র ত্যাগ করিয়া গোপানাঙ্গে একবার, অপানে (গুহ্যে) তিনবার, বামকরে দশবার ও উভয়হস্তে সাতবার মৃত্তিকা ও জল প্রদান করিবে, যদি একবার প্রক্ষালনেই গন্ধ যায় তথাপিও উক্ত সংখ্যা পূর্ণ করিবে।
.
এরপর অন্য একটি শ্লোকে বলা হয়েছে---
👉🏻মনুস্মৃতি - ৫/১৩৮
→কৃত্বা মূত্রং পুরীষং বা ঋান্যচান্ত উপস্পৃশেৎ।
→বেদমধ্যেষ্যমানশ্চ অন্নমশ্নংশ্চ সর্ব্বদা।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
----- বিষ্টামূত্র ত্যাগ করিয়া বিধিমত শুদ্ধ হইবে। এবং আচমন করিয়া ইন্দ্রিয়াচ্ছিদ্
র সকল স্পর্শ করিবে, বেদাধ্যয়ণ করিতে ইচ্ছা হইলে দ্বিতীয় অধ্যায়ে (মনুসংহিতা ২য় অধ্যায়) যে আচমন করিবার বিধান আছে। সে ব্রতের অঙ্গ জানিবে এবং অন্ন ভোজন করিয়া এই প্রকার আচমন করিতে হইবে।
.
Writer & Editor Kanchan Das

রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সনাতন ধর্ম ও যুদ্ধনীতি

👉🏻 যুদ্ধ বলতে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পক্ষগুলোরমধ্যে সুসংগঠিত এবং কখনও কখনও দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘর্ষকে বোঝায়। চারিত্রিক দিক দিয়ে এটি প্রচণ্ডসহিংস এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। যুদ্ধকে সবসময় রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে একটি বাস্তব, প্রায়োগিক ও বিস্তৃত সশস্ত্র সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হয়।  কিন্তু যুদ্ধ অনেক সময় অনেক সমস্যার ও সমাধান করে দেয় বা প্রকৃত মানুষদের তাদের অধিকার ও পাইয়ে দেয়।  যেমন :- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।  
অামাদের বৈদিক ধর্মের ইতিহাস দেখলে দেখতে পাই যে তখন কার রাজা-রাজদের বিস্তৃত যুদ্ধের কাহিনী, আছে দেবাসুর সংগ্রামের কথাও। 
যুদ্ধ শুধু ধ্বংসের কারণ না, যুদ্ধ নতুন করে শুরু করার ও একটি মাধ্যম। যেমনটা আমরা মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা থেকে পাই।
সনাতন ধর্মের শাস্ত্রাদিতে যুদ্ধনীতি সম্পর্কিত বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে ,  এখানে সেটার কিঞ্চিৎ মাত্র অালোচনা করছি। 
প্রথমত যুদ্ধ নীতি সম্পর্কিত সনাতন ধর্মের অালোকে কিছু প্রশ্ন করা যাক---
১) যুদ্ধ করাটা কি বাধ্যতামূলক?
২) যুদ্ধ না করে কি সন্ধি করা যায় না?
৩) যুদ্ধ কিরুপ শাসকের বিরুদ্ধে করা উচিত?
৪) যুদ্ধে যারা অংশ নেবে তাদের নিরাপত্তা কিরুপ হওয়া উচিত?
৫) যুদ্ধে যারা নিহত হবে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ কে করবে?
৬) যুদ্ধে যে সমস্ত ধন সম্পত্তি লাভ হবে সেগুলোর কি হবে?
৭) যুদ্ধে অংশ নেয়া শত্রুপক্ষের সব সৈন্যদের হত্যা করাটা কি বাধ্যতামূলক?
৮) যুদ্ধে পরাজিত রাজ্যের শাসন ক্ষমতা কার হাতে থাকবে?
৯) যুদ্ধে পরাজিত রাজ্যের প্রজাদের সাথে কিরুপ ব্যবহার করবে?
১০) যুদ্ধে পরাজিত রাজ্যের ধর্ম ব্যবস্থা কি একই থাকবে নাকি নতুন ধর্ম প্রথা চালু করবে? 
👉🏻👉🏻 এসব সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম ❓❓❓
একজন আদর্শ রাজার  জন্য যুদ্ধ করাটা  বাধ্যতামূলক নয়, কেননা যুদ্ধ সবসময় ক্ষতির দিকটার পাল্লা ভারী থাকে , তবে যদি কেউ রাজাকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করে তবে অবশ্যই ক্ষাত্র ধর্ম পালনের জন্য যুদ্ধ করতে হবে--
-সমােত্তমাধমৈরাজা ত্বাহুতঃ পালয় প্রজাঃ। 
-ন নিৰ্বৰ্ত্তেত সংগ্রামাৎ ক্ষাত্রং ধর্মমনুস্মরন্।। 
(মনু- ৭/৮৮)
---
অনুবাদ
----"এতদ্বারা বিদ্যোন্নতি হওয়াতে রাজ্যের অশেষ শ্রীবৃদ্ধি হইয়া থাকে। প্রজাপালক রাজাকে তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট, নিকৃষ্ট অথবা ততুল্য কেহ কখনও সংগ্রামে আহ্বান করিলে তিনি ক্ষাত্র ধর্ম স্মরণ করিয়া যুদ্ধ যাত্রায় নিবৃত্ত হইবেন না। অর্থাৎ তিনি এইরূপ কৌশল সহকারে তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন, যেন নিশ্চিত রূপে নিজের বিজয় লাভ হয়।"
.
👉🏻যুদ্ধের জন্য কয়েকটা দিক জানাটা জরুরী,  যেমন--- রাজা যুদ্ধ করার জন্য সকল সরঞ্জাম আছে যেটা দিয়ে জয়লাভ করা সম্ভব? নাকি যুদ্ধে গেলে নিজের রাজ্যের হানি হবে? এক্ষেত্রে কি সন্ধি করা হবে?
.
👉🏻এর উত্তরে বলা যায় যে---
---য়দাবগচ্ছেদায়ত্যামাধিক্যং ধ্রুবমাত্মনঃ।
-তদাত্বে চাল্পিকাং পীডাং তদা সন্ধিং সমায়েৎ।। 
(মনু- ৭/১৬৯)
অনুবাদ
---যখন জানা যাইবে যে, অমুক সময়ে যুদ্ধ হইলে কিছু কষ্টে পড়িবে, কিন্তু তাহার পরে যুদ্ধ করিলে আপন বুদ্ধি ও বিজয় লাভ অবশ্য হইবে, তখন শত্রুর সহিত সন্ধি করিয়া উচিত সময় পর্যন্ত ধৈৰ্য্যাবলম্বন করিবেন ||
.
-য়দা প্রহৃষ্টা মন্যেত সর্বাস্তু প্রকৃতীৰ্ভশম্। 
-অত্যুচ্ছিতং তথাত্মানং তদা কুবীত বিগ্রহম।।
(মনু- ৭/১৭০)
অনুবাদ
--- যখন নিজের সমস্ত প্রজা অথবা সেনা অত্যন্ত প্রসন্ন, উন্নতিশীল এবং উৎকৃষ্ট বলিয়া মনে হইবে এবং নিজেকেও সেইরূপ মনে করিবেন, তখনই শত্রুর সহিত যুদ্ধ করিবেন।"
.
উপরিউক্ত বিষয় থেকে জানা যাচ্ছে যে যুদ্ধ করবেন যদি অাপনার সামর্থ্য থাকতে যুদ্ধে জয় লাভ করার, নচেৎ যুদ্ধ না করে সন্ধি করুন। 🤝
.
👉🏻 সৈন্যসামন্তদের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে শাস্ত্রের অভিমত হলো---
-স্যন্দনাশ্বৈঃ সমেয়ুধ্যেদপে নৌদ্বিপৈস্তথা। 
-বৃক্ষগুল্মবৃতে চাপৈরসিচৰ্মায়ুধৈঃ স্থলে।। 
-প্রহর্ষয়েদ্বলং ব্যুহ্য তাশ্চ সম্যক্ পরীক্ষয়েৎ। 
-চেষ্টাশ্চৈববিজানীয়াদরী মােথয়তামপি৷৷ 
(মনু- ৭/১৯৩-১৯৪)
অনুবাদ
--সমতলভূমিতে যুদ্ধ করিতে হইলে রথ, অশ্ব এবং পদাতিক লইয়া, সমুদ্রে যুদ্ধ করিতে হইলে নৌকা দ্বারা, অল্প অল্প জলে যুদ্ধ করিতে হইলে হস্তী দ্বারা, বৃক্ষোপরি ও ঝােপের মধ্যে যুদ্ধ করিতে হইলে ধনুর্বাণ দ্বারা এবং বালুকাময় স্থানে যুদ্ধ করিতে হইলে ঢাল ও তরবারির দ্বারা যুদ্ধ করিবেন ও করাইবেন। ১৯৩
-যুদ্ধকালে যােদ্ধাগণকে উৎসাহিত ও আনন্দিত করিবেন। যুদ্ধ স্থগিত হইলে শৌর্য্য ও উৎসাহবৰ্ধক বক্তৃতা, ভােজ্য,পানীয়, অস্ত্রশস্ত্রের সহায়তা এবং ঔষধাদি দ্বারা সকলের চিত্ত প্রসন্ন রাখিবেন। ব্যুহ ব্যতীত যুদ্ধ করিবেন না ও করাইবেন না। যুদ্ধনিরত সৈন্যদের কাৰ্য্যের প্রতি দৃষ্টি রাখিবেন। তাহারা যথার্থ যুদ্ধ করিতেছে,—না কপটতা করিতেছে, তাহা লক্ষ্য করিবেন ॥
.
👉🏻যুদ্ধে সৈন্যসামন্ত নিহত হোক বা না হোক রাজার কর্তব্য হলো প্রজাদের সন্তানের মতো দেখা। তাই রাজ্যের অসমর্থ ও অনাথদের পালন করা রাজার ধর্ম---
-অলব্ধং চৈব লিপ্সেত লব্ধং রক্ষেৎ প্রয়ত্নতঃ। 
-রক্ষিতং বর্ধয়েচ্চৈব বৃদ্ধং পাত্রে নিঃক্ষিপেৎ ॥
(মনু- ৭/৯৯)
অনুবাদ
-রাজা এবং রাজসভা অলব্ধ ধন পাইবার ইচ্ছা করিবেন, লব্ধ ধন যত্ন সহকারে রক্ষা করিবেন, রক্ষিত ধনের বৃদ্ধি করিবেন এবং বর্ধিত ধন বেদবিদ্যা, বিদ্যার্থী, বেদোপদেশক, অসমর্থ ও অনাথদিগের প্রতিপালনের জন্য ব্যয় করিবেন |
.
যুদ্ধে প্রাপ্ত ধন সম্পত্তি অবশ্যই বিজিত রাজ্য লাভ করবে, এরুপ শাস্ত্রের নির্দেশ--
--রথাশ্বং হস্তিনং ছত্রং ধনং ধান্যং পশূন্ স্ক্রিয়। 
--সর্বদ্রব্যাণি কুপ্যং চ য়াে য়জ্জয়তি তস্য তৎ৷।
(মনু- ৭/৯৬)
★অনুবাদ★
-- "যুদ্ধে যে রথ, অশ্ব, ছত্র, ধন, ধান্য, গবাদি পশু, নারী এবং অন্য সকল প্রকার দ্রব্য, ঘৃত, তৈলের কলস প্রভৃতি যাহা যাহা জয় করিবেন, তিনি তাহা প্রাপ্ত হইবেন।
.
👉🏻যুদ্ধে গেলেই হত্যা করতে হব এরুপ নির্দয়তা শাস্ত্র দেয়নি, যুদ্ধে কাদেরকে হত্যা করা যাবেনা সেটার একটি বিবরণ নিম্নরূপ ---
-নচ হন্যাৎ স্থলারূটংন ক্লীবংন কৃতাঞ্জলি। 
-নমুক্তকেশংনাসীনংন তবাশ্মীতি বাদিন ৷৷ 
-ন সুপ্তং ন বিসন্নাহংননগ্নংন নিরায়ুধ। 
-নায়ুধ্যমানং পশ্যন্তংন পরেণ সমাগত৷৷  
-নায়ুধব্যসনং প্রাপ্তংনাত্তং নাতিপরিক্ষত। 
-ন ভীতংন পরাবৃত্তং সতাং ধর্মমনুস্মর।। 
(মনু- ৭/৯১-৯৩)
অনুবাদ
-যাহারা যুদ্ধকালে ইতস্ততঃ দাঁড়াইয়া থাকে, যাহারা নপুসংক, কৃতাঞ্জলি, উন্মুক্তকেশ ও উপবিষ্ট; যাহারা বলে আমি তােমার শরণাগত।" ৯১
-যাহারা নিদ্রিত, মুচ্ছিত, নগ্ন, অস্ত্র-শস্ত্রহীন, যুদ্ধদর্শক, শত্রুর সঙ্গী। ৯২
-যাহারা অস্ত্র-শস্ত্রাঘাতে পীড়িত, দুঃখগ্রস্ত(মৃত শোকে কাতর), অত্যন্ত আহত, ভীত এবং পলায়নপর, এতাদৃশ যােদ্ধৃগণ সৎপুরুষদের ধর্ম স্মরণ করিয়া তাহাদিগকে কখনও বধ করিবেন না। ৯৩
.
যুদ্ধে সাধারণত দেখা যায় যে কোনো দেশ বিজয় করলে উক্ত দেশে বিজিত দেশের শাসনকর্তা দেশ পরিচালনা করে। কিন্তু মহর্ষি মনুর মতে পরাজিত রাজ্যে গুনবান ধার্মিক থাকলে তাকেই রাজ্য পরিচালনা করার সুযোগ দেয়া যেতেই পারে,  এই সম্পর্কে বলা অাছে যে---
-প্রমাণানি চকুৰীত তেষাং ধর্মান্যথােদিতা। 
-রত্নেশ্চ পূজয়েদেনং প্রধানপুরুষেঃ সহ।।
(মনু- ৭/২০৩)
অনুবাদ
---বিজয় লাভের পর শত্রুর সহিত প্রমাণ অর্থাৎ প্রতিজ্ঞা পত্রাদি লিখাইয়া লইবেন, এবং উচিত সময়ে মনে হইলে তাহারই বংশের কোন ধার্মিক পুরুষকে এই শর্তে রাজপদে প্রতিষ্ঠিত করিবেন—“আপনাকে আমার আজ্ঞা অর্থাৎ ধর্মানুমােদিত রাজনীতি অনুসারে কাৰ্য্য করিয়া ন্যায় পথে প্রজা পালন করিতে হইবে। এইরূপ উপদেশ প্রদান করিয়া তাহার সন্নিকটে এমন লােক রাখিবেন, যাহাতে পুনরায় উপদ্রব না হয়। প্রধান পুরুষদের সহিত মিলিত হইয়া শত্রুকে রত্নাদি উত্তম সামগ্রী প্রদান পূর্বক সম্মানিত করিবেন। এমন কাৰ্য্য করিবেন না, যাহাতে তাহার যােগক্ষেমও সিদ্ধ না হয়। তাহাকে কারারুদ্ধ করিয়া রাখা হইলেও তাহার প্রতি যথাযােগ্য সম্মান প্রদর্শন করিবেন, যেন সে মনস্তাপ বিস্মৃত হইয়া আনন্দে থাকিবে পারে।
.
যুদ্ধে জয়ের পর 
বিজিত রাজা পররাজ্যের পালনকৃত ধর্মসংস্কৃতি পরিবর্তন করবেনা ইহাই সনাতন শাস্ত্রের বিধান ---
-জিত্বা সম্পািজয়েদেবান ব্ৰাহ্মণাংশ্চৈব ধামিকান। 
-প্রদদ্যাৎ পরিহারাংশচ খ্যাপিয়েদভয়ানি চ৷।
(মনু- ৭/২০১)
অনুবাদ
 -রাজা পররাষ্ট্র জয় করিলে পর, শক্ররাজ্যে সংস্থাপিত যে সকল দেবালয়, প্রসিদ্ধ দেবতা এক তক্তদেশবাসী ধাৰ্ষিক যে সকল ব্রাহ্মণ, ইহাদিগকে বিজিত দ্রব্যের একাংশ হইতে ভূমি ও মুখরি গ্রব্য দান এবং সন্মান দ্বারা পূজা করিবেন, তত্ত্বত্য সকলকে অভয়দান করিবেন(যাতে তারা ভীত ভাবে জীবনযাপন না করে)।
.
উপরের একটি পয়েন্ট এর উত্তর পুরোপুরি করা হয়নি, সেটা হলো বিজিত দ্রব্যের কি হবে সেটার শাস্ত্রীয় প্রমাণ কোথায়?
সেটার শাস্ত্রীয় প্রমাণ নিম্নরুপ---
-আদানমপ্রিয়করংদানঞ্চ প্রিয়কারক। 
-অভীপ্সিতানামর্থানাং কালে য়ুক্তং প্রশস্যতে৷।
(মনু- ৭/২০৪)
অনুবাদ
-যেহেতু সংসারে অন্যের সম্পত্তি গ্রহণ করা অপ্রীতিকর এবং অপরকে দান করা প্রীতিকর, এইজন্য বিশেষ করিয়া সময়ােচিত কর্ম করা এবং পরাজিত শত্রুকে তাহার মনােবাঞ্ছিত সামগ্রী প্রদান করা অতি উত্তম। কখনও শত্রুকে বিদ্রুপ করিয়া উত্যক্ত করিবেন না এবং "তােমাকে জয় করিয়াছি"এরূপ কথা বলিবেন না। কিন্তু তাহাকে সম্মান সূচক বাক্য বলিয়া তাহার সহিত সদ্ব্যবহার করিবেন।"
উক্ত শ্লোক অনুসারে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে অপরের দ্রব্য গ্রহণ করা প্রীতিকর নয় সুতরাং এটা দান করায় শ্রেয়।
.
অতএব পরিশেষে বলা যায় যে সনাতন ধর্মের যুদ্ধনীতিকে মানবতাবাদী নীতি বলা চলে।  
.
Writer and Editor Kanchan Das 🙏🏿

শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সনাতন ধর্মে ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ে কঠোর বার্তা

✅সনাতন ধর্মে ঘুষ বা দূর্নীতির ব্যাপারে কিরুপ মনোভাব পোষণ করে?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
উত্তর:--  ঘুষ বা দূর্নীতি হলো এমন একটি বিষয় যার মূল হলাে নিজ স্বার্থ হাসিল করা।  এটা নিজ রাষ্ট্রের সঙ্গে একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা।  কারণ রাষ্ট্র অাপনার প্রজ্ঞা, উদারতা ও কর্মদক্ষতা দেখে অাপনাকে একটি দায়িত্ত্ব দেবে, কিন্তু সেই দায়িত্ত্ব পাওয়ার পর অাপনি তা অসৎ কাজে লাগাবেন অাপনাকে তো অবশ্যই এর শাস্তি পেতে হবে। 
👉🏻 প্রথমত অামাদের দেখতে হবে যে রাষ্ট্রে কি ধরনের ব্যক্তিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োগ করতে বলা হয়েছে---
➖অন্যানপি প্রকুর্বীত শুচী প্রাজ্ঞানবস্থিতা। 
➖সম্যগর্থসমাহর্তনমাত্যান সুপরীক্ষিতান।।
(মনুস্মৃতি-- ৭/৬০ )
*️⃣অনুবাদ--
"পবিত্ৰাত্মা, বুদ্ধিমান, স্থিরবুদ্ধি, ধন সামগ্রী সংগ্রহে অতিশয় নিপুণ এবং সুপরীক্ষিত ব্যক্তিকে মন্ত্রী নিযুক্ত করিবেন ॥"
.
➖নিবৰ্ত্তেৰ্তাস্য আবদ্ভিরিতি কর্তব্যতা নৃভিঃ। ➖তাবতােতন্দ্রিতা দক্ষা প্রকুবীত বিচক্ষণা।।
(মনুস্মৃতি- ৭/৬১)
*️⃣অনুবাদ--
"যতজন লােকের দ্বারা (রাজ) কার্য সম্পাদিত হইতে পারে, ততজন নিরলস বলবান্ এবং সুচতুর প্রধান পুরুষকে অধিকারী অর্থাৎ কর্মচারীরূপে নিযুক্ত করিবেন৷৷*

উপরিউক্ত শ্লোক এটা অনুমান করা যাচ্ছে যে রাজকার্যে বিদ্ধান ব্যক্তিবর্গকে রাজকার্যে নিযুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে।
যদি তাহাদের মধ্য থেকে কেউ নিজের দায়িত্ত্ব ও কর্তব্য ভূলে অসৎ উপায়ে গোপনে ধন লাভ করার চেষ্টা করে তাদের কি করা উচিত?
এই ব্যাপারে শাস্ত্রে বলা অাছে---
➖য়ে কায়িকেভ্যোর্থমেব গৃহ্নীয়ুঃ পাপচেতসঃ। 
➖তেষাং সর্বস্বমাদায় রাজা কুয়াৎ প্রবাসনম্॥
(মনুস্মৃতি--৭/১২৪  )
*️⃣অনুবাদ--- 
"যে রাজকর্মচারী অন্যায়রূপে বাদী ও প্রতিবাদীর নিকট হইতে গােপনে ধন লইয়া পক্ষপাতপূর্বক অন্যায় করে, তাহাকে যথােচিত দণ্ডদান করা কর্তব্য। তাহার সর্বস্ব হরণ করিয়া তাহাকে এমন স্থানে রাখিবেন, যেন সে স্থান হইতে তাহার প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব না হয়। তাহাকে দণ্ডদান করা না হইলে, তাহার অনুসরণ করিয়া অন্য রাজকর্মচারিগণও তাহার ন্যায় কুকর্ম করিতে পারে। কিন্তু তাহাকে দণ্ড দেওয়া হইলে অন্য সকলে রক্ষা পাইবে।"
.
★উত্তম গুন সম্পন্ন ব্যক্তি বর্গকে রাজকার্যে নিযুক্ত করতে বললেও তাদের কুকর্মে তাদের শাস্তির নির্দেশ ও দেয়া হচ্ছে। 
অতএব বলা যায় যে  ঘুষ বা দূর্নীতিকে সনাতন ধর্ম কখনোই সমর্থন করেনা। বরং এর সাথে জড়িতদের শাস্তির নির্দেশ দেয়া হচ্ছে শাস্ত্রে।
.
Writer and Editor Kanchan Das 

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন: ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖ *️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবি...