বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

মনুস্মৃতি ৯/৩ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব

সাম্প্রতিক সময়ে মনুসংহিতার নবম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শ্লোকটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। শ্লোকটি হলো:
পিতা রক্ষতি কৌমারে ভর্তা রক্ষতি যৌবনে।
রক্ষতি স্থবিরে পুত্রা ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমহতি॥
(মনুসংহিতা: ৯/৩)
★বঙ্গানুবাদ★ →কৈশোরে বা বাল্যকালে পিতা [কন্যাকে] রক্ষা করেন, যৌবনে স্বামী [স্ত্রীকে] রক্ষা করেন এবং বার্ধক্যে পুত্ররা [মাতা/নারীকে] রক্ষা করেন; কোনো অবস্থাতেই নারী অরক্ষিত বা একাকী পরিত্যাগযোগ্য নয়।

অনেকে এই শ্লোকের আক্ষরিক অর্থ বা অপব্যাখ্যা ধরে নিয়ে দাবি করেন যে, শাস্ত্র নাকি নারীকে পরাধীন বা অধিকারহীন করে রেখেছে। কিন্তু গভীরভাবে শ্লোকটির সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।
---
১. 'সুরক্ষার দায়িত্ব', পরাধীনতা নয়
এই শ্লোকে নারীকে কোন বন্দিদশা বা পরাধীনতার কথা বলা হয়নি। এখানে মূলত পুরুষের ওপর বাধ্যতামূলক সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে:
কন্যা অবস্থায়: পিতা তার শিক্ষা, লালন-পালন ও নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন।
যৌবনে: স্বামী স্ত্রীর জীবনের সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য সুনিশ্চিত করবেন।
বার্ধক্যে: বৃদ্ধা মাকে একা না ফেলে সন্তানরা (পুত্ররা) তাঁর সেবা ও দেখভালের দায়িত্ব নেবে।
তৎকালীন প্রাচীন যুগে আধুনিক রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বা পুলিশ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কোনো নারী যেন কখনো অনাথ, একাকী বা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে না থাকে—সেজন্যই পরিবারকে এই সামাজিক সুরক্ষাবলয় (Safety Net) তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
---
২. নারীর নিজস্ব সম্পদ ও আইনি অধিকার (স্ত্রীধন) অনেকে মনে করেন শাস্ত্রে নারীর নিজস্ব কোনো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। অথচ মনুসংহিতাতেই নারীর সম্পত্তি ও নিজস্ব ধনের ওপর একক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:
-পিতৃমাতৃসুতভ্রাতৃ দত্তং অধ্যুপাগতম্।
-অধ্যাগ্নিকং ঔপায়নিকং স্ত্রীধনং ষড়বিদং স্মৃতম্॥
(মনুসংহিতা: ৯/১৪৮)
★বঙ্গানুবাদ★→পিতা, মাতা, সন্তান ও ভাইয়ের দেওয়া উপহার এবং বিবাহের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় প্রাপ্ত সম্পত্তি—ভালোবাসার সূত্রে পাওয়া এই সব উপহার মিলে স্ত্রীধন মোট ছয় প্রকার বলে স্মৃতিশাস্ত্রে গণ্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: পিতা, মাতা, স্বামী বা আত্মীয়দের দেওয়া ধন ও উপহার হলো নারীর 'স্ত্রীধন'। মনুসংহিতা ৯/১৪৯ ও ৯/১৯০ শ্লোক অনুযায়ী, এই সম্পদের ওপর স্বামী বা পরিবারের অন্য কোনো পুরুষের কোনো অধিকার নেই। নারী তাঁর এই সম্পত্তি নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার বা দান করতে পারেন।
---
৩. গৃহ ও সংসারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নারীর একক সিদ্ধান্ত
সংসারের অর্থ জমা রাখা, খরচ করা এবং পরিচালনার চূড়ান্ত দায়িত্ব নারীর ওপরই ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে:
-অর্থস্য সংগ্রহে চৈনং নিয়োগ্যাং চ ব্যয়েন চ।
-শৌচে ধর্মে অন্নপাক্যাং চ পারিনাহ্যস্য বেক্ষণে॥
(মনুসংহিতা: ৯/১১)
★বঙ্গানুবাদ★→ধন-সম্পদ সংগ্রহ ও সঞ্চয়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, গৃহস্থালির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ধর্মীয় কর্তব্য পালন, খাদ্য প্রস্তুত (রান্নাবান্না) এবং গৃহস্থালির যাবতীয় আসবাবপত্র ও তৈজসপত্রের দেখভাল করার কাজে গৃহিণীকে (স্ত্রীকে) নিযুক্ত করা উচিত।

ব্যাখ্যা: গৃহের অর্থ সঞ্চয় ও ব্যয় নির্ধারণ, গৃহের পবিত্রতা রক্ষা, ধর্মকার্য পরিচালনা এবং সংসারের সামগ্রিক তদারকি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা নারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
---
৪. সনাতন শাস্ত্রে নারীর সর্বোচ্চ স্থান
মনুসংহিতায় মাতাকে যে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তা যেকোনো শাস্ত্রের চেয়ে অনুপম:
-উপাধ্যায়ান দশাচার্য আচাৰ্যাণাং শতং পিতা।
-সহস্রং তু পিতৃন মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে॥"
(মনুসংহিতা: ২/১৪৫)
★বঙ্গানুবাদ★→সম্মান ও গৌরবের বিচারে একজন আচার্য দশ জন উপাধ্যায়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, পিতা ১০০ জন আচার্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মাতা ১,০০০ জন পিতার চেয়েও অধিক গৌরবময় ও পরম পূজনীয়।

ব্যাখ্যা: একজন আচার্য ১০ জন শিক্ষকের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, পিতা ১০০ জন আচার্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু মা নিজের গৌরব ও মর্যাদায় ১,০০০ পিতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
---
#অতএব, মনুসংহিতার ৯/৩ শ্লোকটিকে নারীর পরাধীনতার প্রতীক হিসেবে না দেখে, তৎকালীন সমাজের প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতি পুরুষের কর্তব্য ও সুরক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে দেখাই সঙ্গত। একইসাথে শাস্ত্রে নারীর 'স্ত্রীধন' (নিজস্ব সম্পত্তি), গৃহে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা এবং মাতৃতুল্যের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে তাঁর সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাকে সুদৃঢ় করা হয়েছে।
যেকোনো শ্লোকের একটি অংশ কেটে প্রচার না করে, সামগ্রিক শাস্ত্রে নারীর অবস্থান ও অধিকার অনুধাবন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Writer and Editor Kanchan Das

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন:
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
*️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও রীতিনীতি পরিচালিত হয়। অাইনের শাসনের একটি বিষয় হলো বিচারিক প্রক্রিয়া,  অাজকে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রের কিঞ্চিত মাত্র অভিমত তুলে ধরবো----
.
👉🏻প্রথমত অামাদের অাগে কিছু প্রশ্ন করা উচিত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে, যেমন----
১) সকল মানুষ কি সমান একজন রাষ্ট্র নায়কের কাছে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
২) একজন রাষ্ট্রনায়ক কি ভালোমন্দ বিচার না করেই যে কাউকে অন্যায়  শাস্তি দিতে পারে? সনাতন ধর্ম কি বলে এই সম্পর্কে?
৩) একজন রাষ্ট্র নায়ক কি সবাইকে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে? নাকি কতিপয় ব্যক্তিতে দন্ড দেবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৪) রাষ্ট্রনায়ক কি তাঁর পরিবারের সদস্য বা তাঁর মিত্রদের দন্ড দান দেয়া থেকে বিরত থাকবেন?  কি বলে সনাতন ধর্ম?
৫) রাজা কি অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে? এই সম্পর্কে কি বলে সনাতন ধর্ম?
৬) জ্ঞানী ব্যক্তিরা যদি অপরাধ করে এক্ষেত্রে তাদের ছাড় দেবার কোনো নিয়ম অাছে? এই বিষয় টা নিয়ে কি বলে সনাতন ধর্ম? 
৭) রাজা যদি সঠিক ভাবে দন্ড ব্যবস্থা বজায় রাখে এতে তিনি কি প্রশংসিত হবেন? নাকি নিন্দিত হবেন???
. 
🔥১)---- একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে রাষ্ট্রের সকল প্রজাই সমান--
-তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো হমধ্যমাসেঃ মহসা বি বাবৃধুঃ।
-সুজাতাসো জনুষঃ পৃশ্নি মাতরা দিবো মর্যা আ নো অচ্ছা জিগতন।।
(ঋগ্বেদ. ৫/৫৯/৬)
★অনুবাদ★
-- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয় তাঁহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে। উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে। জন্ম হইতেই তাঁহারা কুলীন। তাঁহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য। তাঁহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।
.
উপরিউক্ত মন্ত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে সকল মনুষ্যই সমান।
.
🔥২)----- একজন রাষ্ট্রনায়ক কখনো কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তিকেই অন্যায় ভাবে শান্তি দিতে পারেননা। কারণ রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই দন্ডপ্রাপ্য ব্যক্তিকে অবশ্যই দন্ড প্রধান করা একজন ন্যায়শাসকের কর্তব্য--
-অদন্ড্যান্দন্ডয়ন্ রাজা দন্ড্যাংশ্চৈবাপ্যদন্ডয়ন্। 
-অয়শাে মহদাপ্নোতি নরকং চৈব গচ্ছতি ॥
(মনু- ৮/১২৮)
★অনুবাদ★
---যে রাজা দন্ডনীয়কে দন্ডদান করেন না, কিন্তু যে দন্ডাহ্নহে তাহাকে দন্ড দেন, তিনি জীবদ্দশায় ঘাের নিন্দা এবং মৃত্যুর পর মহাদুঃখ প্রাপ্ত হন। সুতরাং অপরাধীকে সর্বদা দন্ডদান করিবেন, নিরপরাধীকে কখনও দন্ডদান করিবেন না ॥
.
🔥৩) ------ একজন রাষ্ট্রনায়ক অবশ্যই সকল অপরাধী কে দন্ড দেবার ক্ষমতা রাখে। যেমন ধরুন রাষ্ট্রনায়কের কোনো মিত্র দোষ করলো, শাস্ত্রের নির্দেশ মিত্রতার খাতিরে কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না, অপরাধী সে অপরাধীই, তাঁকে দন্ড দেয়া অাদর্শ রাষ্ট্রনায়কের কর্তব্য---
নমিত্ৰকারণাদ্রাজা বিপুলাদ্বা ধনাগমৎ। 
সমুৎসৃজেৎ সাহসিকান্ সর্বভূতভয়াবহা৷ ৩৪৭
- গুরুং বা বালবৃদ্ধৌ বা ব্রাহ্মণং বা বহুশ্রুত। 
-আততায়িনমায়ান্তং হন্যাদেবাবিচারয়।। ৩৫০
(মনু- ৮/৩৪৭,৩৫০)
★অনুবাদ★ 
--মিত্রতার খাতিরে অথবা প্রচুর ধনলাভের আশায় রাজা এই সকল প্রাণী পীড়ক দুবৃত্তের বন্ধন ছেদন করিয়া কখনও ছাড়িয়া দিবেন না। ৩৪৭
--গুরু হউক বা পুত্রাদি বালক, পিতা প্রভৃতি বৃদ্ধ, ব্রাহ্মণ অথবা বহুশ্রুত বিদ্বান, যে কেহ হউন
কেন, যিনি ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া অধর্মচারী হইবেন এবং বিনা অপরাধে অপরকে হত্যা করিবেন তাহাকে বিনা বিচারে বধ করিবেন। ৩৫০
.
🔥৪------ রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধান যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতা লাভ করে তখন অবশ্যই উনাকে পরিবারের মোহ ত্যাগ করতে হবে, কেননা মোহ ত্যাগ না করলে পরিবারের কেউ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে যুক্ত হলে তাঁকে দন্ড দেয়া রাজার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই মোহ ত্যাগ করে পরিবারের কেউ অপরাধ করলে তাঁকে দন্ড প্রধান করা প্রকৃত শাসকের কর্তব্য----
-পিতাচার্য্য সুহৃন্মাতা ভায়া পুত্রঃ পুরােহিতঃ। 
-নাদন্ড্যো নাম রাজ্ঞােস্তিয়ঃ স্বধর্মেনতিষ্ঠতি ॥ 
(মনু- ৮/৩৩৫)
★অনুবাদ★ 
--পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, আচাৰ্য, পুরােহিত বা মিত্র যে কেহ হউন না কেন, যিনি স্বধর্মে স্থির থাকেন না, তিনি রাজার অদণ্ড্য নহেন। অর্থাৎ যখন রাজা ন্যায়াসনে উপবিষ্ট হইয়া বিচার করেন, তখন কাহারও প্রতি পক্ষপাত না করিয়া অপরাধীকে যথােচিত দণ্ড দান করিবেন।
.
🔥৫------- প্রজারা অপরাধ করলে সেটা সাজা দিতে হবে। তাই বলে রাজা অপরাধ করলে সেটা ক্ষমার যোগ্য না, একটা অপরাধ সংঘটিত হলে একজন সাধারণ প্রজা যে দন্ড পাবে, একজন রাজা সেই অপরাধ করলে একহাজার গুন দন্ড বেশী পাবে---- 
-কার্যাপণং ভবেদ্দন্ড্যোয়ত্ৰান্যঃ প্রাকৃত জনঃ। 
-তত্র রাজা ভবেন্ড্যঃ সহস্রমিতি ধারণা ॥
(মনু- ৮/৩৩৬)
★অনুবাদ★ 
--যে অপরাধে সাধারণ লােকের এক পয়সা দণ্ড হয়, সে অপরাধে রাজার এক সহস্র পয়সা দণ্ড হইবে। অর্থাৎ জনসাধারণ অপেক্ষা রাজার সহস্র গুণ দণ্ড হওয়া উচিত।
.
🔥৬------- রাষ্ট্রের মূখ্য ভূমিকা পালন করে বুদ্ধিজীবী মহল, যারা শিক্ষায় অন্য প্রজাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে, তারা যদি অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে তবে তাদের শাস্তি বেশী দেবার কথা বলা হচ্ছে,  কেননা তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই অপরাধ করে থাকে---
-অষ্টাপাদ্যন্ত শূদ্রস্য স্তেয়ে ভবতিকিন্বিষম্। 
-যােডশৈব তু বৈশ্যস্য দ্বাত্রিংশৎ ক্ষত্রিয়স্য চ।। ৩৩৭
-ব্রাহ্মণস্য চতুঃষষ্টিঃ পূর্ণংবাপি শতং ভবেৎ।
-দ্বিগুণ বা চতুঃষষ্টিস্তদ্দোষগুণবিদ্ধিসঃ ॥ ৩৩৮
(মনু- ৮/৩৩৭-৩৩৮)
★অনুবাদ★ 
 --কিঞ্চিৎ বিবেকের সঙ্গে চুরি করিলে শূদ্রের আট গুণ, বৈশ্যের ষােল গুণ এবং ক্ষত্রিয়ের বিশ গুণ দণ্ড হইবে ৷৷ ৩৩৭
--ব্রাহ্মণের চৌষট্টি গুণ, শত গুণ বা অথবা একশত আটইশ গুণ দণ্ড হওয়া উচিত। অর্থাৎ যাহার জ্ঞান ও মর্যাদা যত অধিক, অপরাধের জন্য তাহার তত অধিক দণ্ড হওয়া আবশ্যক। ৩৩৮
.
👉🏻উক্ত বিষয়টি দেখলে পক্ষপাত মনে হতে পারে, কিন্তু মোটেও সেটা পক্ষপাতিত্ব নয়। যাদের জ্ঞান ও মর্যাদা অধিক তাদের দন্ডের পরিমান অধিক একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।  🙏🏿
.
🔥৭------- রাজা যদি রাজ্যে সঠিক দন্ড ব্যবস্থা বজায় রেখে রাজ্যব্যবস্থা ভালো ভাবে পরিচালিত করে তাহলে তিনি সর্বত্র প্রশংসিত ব্যক্তি---
-যস্য স্তেনঃ পুরে নাস্তি নান্যস্ত্রীগাে ন দুষ্টবা। 
-ন সাহসিকদণ্ডগ্লৌ স রাজা শক্ৰলােকভাক।
(মনু- ৮/৩৮৬)
★অনুবাদ★
--যে রাজ্যের রাজ্যে চোর, পরস্ত্রীগামী, কটুভাষী, দুঃসাহসী দস্যু এবং দণ্ডপ্ন অর্থাৎ রাজাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী নাই, সেই রাজাই অতীব শ্রেষ্ঠ।
.
.
✅পরিশেষে বলা যায় যে সনাতন ধর্ম মতে বিচারিক ব্যবস্থা খুবই যৌক্তিক ও তাৎপর্য্য পূর্ণ ।  
.
🔥Writer and Editor Kanchan Das🔥

কল্কি অবতার ও একটি ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ

★বিগত কয়েক বছর ধরে দেখছি ইসলামি পন্ডিতগন বেদে মুহাম্মদ(সা:) আছেন বলে হিন্দুদের সু-কৌশলে ইসলাম গ্রহনের আহ্বান করছেন।আর না জেনে সেই ফাঁদে অনেকেই পা বাড়িয়েছেন।
তাঁরা কল্কিদেব এর সাথে মুহাম্মদ(সা:) সাদৃশ্য ঘটিয়েছেন,যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডা:জাকির নায়েক।

→মুসলিমদের ভাষ্যমতে সনাতন ধর্ম কোন
গ্রন্থ না এবং বেদ -গীতাও নাকি ঈশ্বরের ঐশী বানি না,অথচ যখন কল্কির কথা বলা হয় তখন নির্লজ্জের মত মুহাম্মদ(সা:) কে মিলিয়ে ধরে,আর এই অপপ্রচার কারীর মূল হোতা হচ্ছেন জাকির নায়েক।তাই
জাকির নায়েককে নিয়ে আবার হাজির হলাম।

→আমি দেখি আমাদের ধর্মে বর্ণিত কলিযুগের শেষ অবতার কল্কি অবতারের
ভবিষ্যত বাণী নিয়ে অনেক সুযোগ
সন্ধানী অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাকির নায়েক ইসলাম ধর্মের শেষ নবী
মোহম্মদ (সাঃ)কে দাবী করছেন আমাদের কল্কি অবতার হিসেবে। জাকির নায়েক তার
যুক্তি দেখাতেই পারেন, তার মুসলিম অনুসারীগণ
আবার এতে নেচে উঠতেই পারে। কিন্তু আমি
ব্যক্তিগতভাবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ
করে দেখি ওরা কি ঠিক পথেই হাটছে কি না??
.
১।জাকির নায়েক কিন্তু প্রতিবার
দাবী করে এসেছেন যে, হিন্দুদের মূল
ধর্মগ্রন্থ বেদ। প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি বেদ ছাড়া
অন্য গ্রন্থকে স্বীকার করতে নারাজ। আমাদের
জন্মান্তরবাদকে অস্বীকার করার
জন্য তিনি পূণর্জন্মের ইস্যুতে কেবল বেদকেই
মূল্য দেন, গীতা কিংবা পূরানকে মূল্যই দেননি বা
নির্ভর করেন নি, বিশ্বাসও করেন নি।
কিন্তু মোহম্মদকে কল্কি অবতার প্রমাণের
ক্ষেত্রে পূরাণের উপর তার
এতো নির্ভর্শীলতা কেন???
এটা কি ইসলামবিরোধী আচরণ নয়?
কারণ কোরান
মুসলিমদের বারবার বলেছে, কোরানের আগের
সকল কিতাবই নাকি সম্পূর্ণ বিকৃত, তাই এইসব গ্রন্থ
থেকে মুসলিমদের বিভ্রান্ত হতে কোরান বারবার
নিষেধ করেছে!!! তবুও ইসলামিক
থিওরী অনুযায়ী এইসকল বিকৃত গ্রন্থের উপর
নির্ভর্শীলতা/বিশ্বাস স্থাপন কি তার ইসলাম বিরোধী
আচরণ নয়?
.
২। এখন আমরা দেখি জাকির নায়েক ইসলামিক থিওরী
অনুযায়ী বিকৃতহিন্দুধর্মগ্রন্থ বেদ এর উপর বিশ্বাস
স্থাপন করে ইসলামের সম্মান বাড়িয়ে দিলেন নাকি
কমিয়ে দিলেন!! “বেদ” এ তিনি কিন্তু
মোহম্মদের নাম সরাসরি খুঁজে পান নাই। কেবল
উপমা ব্যবহার করেছেন। তার জন্য মোটামুটি
বিশ্বাসযোগ্য মন্ত্র হল "অথর্ব "বেদ
এর ২০/১২১/১-৩ নম্বর মন্ত্র।
এই মন্ত্রে তিনি নানান উপমাকে মোহম্মদের
বিভিন্ন পারিপার্শিক বিষয়ের সাথে তুলনা করে(যেমন
১০০ স্বর্ণমূদ্রার সাথে মোহম্মদের ১০০ সাথীর
তুলনা, ১০ টি হারের সাথে ১০ জন সাহাবীর তুলনা,
১০০০০ গাভীর সাথে ১০০০০ সৈন্যের যুদ্ধে যাবার
হাস্যকর তুলনা করে) তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা
করেছেন যে মোহম্মদ বেদ এ আছেন
(উটের রথের প্রসঙ্গ নাই বা বললাম)। কিন্তু আমি
যুক্তিতে(আমাকে আবার এক বস্তা যুক্তি ভাববেন না)
বিশ্বাসী। এইরকম উপমা নিয়ে গবেষণা করলে
আমার তো মনে হয় বেদ এ আমাকে খুঁজে
পাওয়াও অসম্ভব হবে না(ভগবান ক্ষমা করুন)!!! তাই
উপমাগুলো বাদ দিলে মন্ত্রের মধ্যে একটাই
নির্ভরযোগ্য শব্দ পাওয়া যায় যেটা কেবল অর্থগত
সাদৃশ্যের দিক থেকে মোহম্মদের নামের
সাথে মিলে যায়(জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যিনি এখানে আরবী এবং সংস্কৃত
অর্থকে এক করেছেন)।
সেই শব্দটি হল 'নরাশংস'। 'নরাশংস' শব্দ 'নর' এবং
'আশংস'
এই দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত । নরের অর্থ মানুষ
এবং আশংস শব্দের অর্থ প্রশংসিত (জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী) ।
মানে নরাশংস শব্দের অর্থ হল
যিনি প্রশংসিত(জাকির নায়েকের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী)। আরবি মোহম্মদ নামের অর্থও
নাকি যিনি প্রশংসিত। দুই অর্থ যেহেতু এক, তাই মুহম্মদ
নাকি বেদ এ আছেন।
তাহলে এই অর্থের সাদৃশ্যের
ভিত্তিতে মোহম্মদকে বেদ এ অন্তর্ভুক্ত করার
চেষ্টা করেছেন জাকির নায়েক।
.
এদিকে কংগ্রেসও নাকি জাকির নায়েকের দাবির সূত্র
ধরে দাবী তুলেছে বেদ এ সোনিয়া গান্ধীর
নামও উল্লেখ আছে(ভগবান ক্ষমা করুন)!!
.
কারণ বেদ এ “সুবর্ণা” শব্দটি আছে যার অর্থ
সোনা, আবার সোনিয়া শব্দের অর্থও সোনা!!
জাকির নায়েকের দাবিকে মেনে নিলে
কংগ্রেসের দাবি কি দোষ করল? এটা কি একটা
হাস্যকর
পরিস্থিতি নয়? .
আপনারা কেউ আবার নিজেকে বেদ
এ কেবল নামের অর্থের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে
নিজের নাম খুঁজতে যাইয়েন না।
.
৩। 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এই আরবি বাক্যের অর্থ,
সকল প্রশংসা আল্লার জন্য। আবার 'দয়ানন্দ কি জয়' এই
বাক্যের
মানেও সকল প্রশংসা দয়ানন্দের জন্য। যেহেতু ২
টি বাক্যের একই মানে, তাই জাকির নায়েকের ঐ
“উপমা তত্বের” ভিত্তিতে আমিও
কি দাবী করতে পারি না 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এই
কথা বলতে কোরানে আসলে দয়ানন্দ নামক
কোনো ব্যক্তির ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে???
**কতোটা বিশ্বাসযোগ্য হবে আমার দাবী?
তাহলে জাকির নায়েকের দাবীই
বা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য?
.
৪। এখন আসি আসল কথায়। জাকির নায়েক নবীকে
হিন্দুদের অবতার বানানোর চেষ্টা করলেন, মানে
তিনি হিন্দুদের অবতারবাদে বিশ্বাস করলেন, মানে
তিনি কূর্ম অবতার, বুদ্ধ অবতার, বরাহ
অবতার প্রভৃতিকে মেনে নিলেন, কারণ এগুলো
অবতারের পরেই না কল্কি অবতারের আগমন।
অবতারবাদকে মেনে নিলেন বিধায়
তিনি ভাগবত গীতায় বিশ্বাস করলেন।
ভাগবতগীতায় বিশ্বাস করলেন বিধায় তিনি
জন্মান্তরবাদকেও মেনে নিলেন,
কারণ ভাগবত গীতায়:-- “অবতারবাদ” এবং “জন্মান্তরবাদ”
সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
জাকির নায়েক তাহলে জন্মান্তরবাদেও বিশ্বাস করে
ফেললেন! ইসলাম বিরোধী এইসব কাজ করে
ইসলামের সম্মান
কি তিনি বৃদ্ধি করলেন? আর তাকে নিয়েই ওনার
ভক্তদের কি উল্লাস!!
.
৫। এখন ইসলাম নিয়ে কিছু কথা। ইসলামের মূলনীতি
হল “আল্লা ছাড়া উপাস্য নেই এবং মুহম্মদ তার রাসূল”
এই কথায় যে বিশ্বাস
করবে সেই কেবল মুসলিম, নইলে সে নয়।
ইসলামে গরু কিংবা উট কোরবাণী দেওয়ার বিধান
আছে।
ইসলামে অবিশ্বাসীদেরকে হত্যা করার বিধান
আছে। এইগুলোর কোনটাই কি সনাতন ধর্মের
সাথে মেলে????
.
আমাদের কোনো অবতার কি নতুন কোনো
ধর্মমতের প্রচার করেছেন?? .
পুরোনো সব
নিয়মকে একেবারে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন?
গো-মাংস আহারে উতসাহিত করেছেন (ভগবান ক্ষমা
করুন)!!
কেউ কি স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীতে
হেটেছেন, অথচ মুহম্মদ সনাতন ধর্মের
আদর্শগত প্রাগৈতিহাসিক
স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হেটেছেন!!
.
এখন প্রশ্ন হচ্ছে:----
ক) সনাতন ধর্মে কোনো অবতার মত প্রকাশের
স্বাধীনতা হরণ করেছেন?
খ) নাস্তিককে কতল করার নির্দেষ সনাতন ধর্মের
কোনো অবতার
দিয়েছেন?
গ) সনাতন ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যার বিধান কোনো
অবতার দিয়েছেন?
সর্বোপরি, সনাতন ধর্ম অনুযায়ী দশটি প্রধান অবতার
হচ্ছে স্বয়ং ভগবানের অবতার। তার মানে দশ
অবতারের শেষ অবতার কল্কি অবতাররুপে স্বয়ং
ভগবান অবতরণ
করবেন পৃথিবীতে। কোন সাহসে জাকির নায়েক
মুহম্মদকে কল্কি অবতার বানিয়ে দিলেন? কারণ অন্য
অবতারের মত কল্কি অবতারও স্বয়ং ভগবান, তিনি
কোনো বার্তা বাহক নন।
তাহলে জাকির নায়েকের
যুক্তি অনুযায়ী মুহম্মদ কল্কি অবতার
হলে মুহম্মদই স্বয়ং স্রষ্টা হয়ে যাচ্ছে!!! জাকির
নায়েকের এই
স্পর্ধাকে মুসলিমরা কেমনে ক্ষমা করে দিল?
.
৬। ভবিষ্য পুরাণে মুহম্মদ নামক কারও ভবিষ্যত বাণী
থাকলেও থাকতে পারে, কারণ সেখানে নাকি সম্রাট
অশোক, চন্দ্রগুপ্ত,
মাধবাচার্য প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গের ভবিষ্যত বাণী
দেওয়া আছে। কিন্তু তাদের কারও অনুসারীগণ
তো তাদের নেতাকে নিয়ে এইরকম উদ্ভট দাবী
করে নি।
তাহলে মুহম্মদের অনুসারীদের
এতো বাড়াবাড়ি করার কোনো কারণই দেখি না।
.
৭।ভাগবত পুরাণে দশটিসহ আরও বেশ কয়েকটি
অবতারের বর্ণনা সুন্দরভাবে বর্ণনা করা আছে।
কল্কি অবতার সম্বন্ধে বলা আছে যে
“অতঃপর দুইযুগের(কলিযুগ এবং সত্যযুগের)
সন্ধিক্ষণে ভগবান কল্কি অবতার রুপে বিষ্ণুযশ নামক
ব্যক্তির পুত্র হিসেবে জন্ম গ্রহণ করবেন। ঐ
সময় পৃথিবীর প্রায় সমস্ত শাসক অধঃপতিত হয়ে
লুটেরা ও ডাকাতের পর্যায়ে নেমে যাবে।”-
(ভাগবতপুরাণ-১/৩/২৫)
এর অর্থ হল ভগবান এই কলিযুগের শেষের দিকে
“কল্কি অবতার” হিসেবে আবির্ভুত
হবেন। তিনি অসাধু লোকদের বিনাশ করে দায়িত্ব
শেষ করার পর খুব কম সংখ্যক লোক বেঁচে
থাকবে, যারা সৎ এবং ধার্মিক।
“কল্কি অবতারের পর এই পৃথিবীতে আবার সত্যযুগ
শুরু হবে।” সনাতন ধর্ম অনুযায়ী কলি যুগের
সময়কাল হল ৪,৩২,০০০ বছর। এখন কেবল ৫,০০০
বছর চলছে।তার
মানে কল্কি অবতারের জন্ম গ্রহণ
করতে এখনও অনেক দেরি!! আফসোস!!!!
.
৮।কল্কি পুরাণ ২-১৬ কল্কি অবতারের জন্মের পর
মহাস্বস্থি
তার র্নাস হিসেবে নিয়োগ হন,আম্বিকা তার নাড়ি
(Umbilical Cord)কাটেন এবং সাবিত্রি তার গঙ্গাজল
দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করে দেন। মুহাম্মদের
জন্মের
সময় এরা কি উপস্থিত ছিলেন? তার কি শরীর গঙ্গাজল
দিয়ে
ধোয়া হয়েছিল? কোনটাই নয়।
মুহাম্মদ কাসিম নানোত্বি,মীর্জা গুলাম
আহমদ,বাহাউল্লাহ এর মত বিশ্বখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিতরাও
তো কোরান-হাদিসে নাকি নবী হিসেবে
শ্রীকৃষ্ণের কথা খুঁজে পেয়েছিলেন,মীর্জা
গুলাম তো বলেই বসেছিলেন, "আমি একথা
পরিস্কারভাবে বলতে চাই যে শ্রীকৃষ্ণ একজন
দূর্লভ মহাত্মা।তিনি একজন নবী যিনি ঈশ্বরের
নির্দেশে নেমে এসেছেন,তিনি ঈশ্বর থেকে
এসেছেন,তিনি ছিলেন জয়ী ও যশবান।তিনি
আর্যদের ভূমি থেকে পাপ দুর করেছেন,তাঁর
ছিল ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ ভালবাসা।তিনি ছিলেন সৎ এর
সহচর ও শয়তানের শত্রু।"
টাইমস অব ইণ্ডিয়া তে কাশিম রশিদ লিখেছিলেন,
“নবী মুহাম্মদ বলেছেন,ভারতে একজন আল্লাহর
নবী ছিলেন যার গায়ের রঙ ছিল কালো এবং তাঁর নাম
ছিল কাহান
(কৃষ্ণ)”
(History of Hamadan Dailmi Chapter Al- Kaaf)
এখন মুসলিমরা কি শ্রীকৃষ্ণকে নবী মানতে
প্রস্তুত??
অনেকেই হয়ত বলতে পারেন পৃথিবীতে
আরো অনেক নবী
এসেছেন হতে পারে শ্রীকৃষ্ণ তেমন কেউ
ছিলেন।এখন কথা
হচ্ছে সর্ম্পূণ মহাভারত জুড়ে কোথাও কিন্তু
শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে নবী হিসেবে বলেন নি বরং
হিন্দু ধর্মে নবী বা প্রেরীত রসূল বলে কিছু মানা
হয় না।এমনকি শ্রীকৃষ্ণ নিজেও কোথাও বলেননি
যে তার পর অণ্য কোন ব্যক্তি আসবে ঈশ্বরের
প্রেরিত কোন মানুষ হিসেবে বরং গীতায় (৪.৭-৮)
তিনি বলেছেন ধর্ম রক্ষার জন্য এবং সাধুদের
পরিত্রানের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হবেন
বা জন্ম নিবেন। এখন মুসলিমরা কি পূর্ণজন্ম ত্বত্ত
মানতে প্রস্তুত এবং শ্রীকৃষ্ণকে নবী মানতে
প্রস্তুত ?? মুসলিম পন্ডিতই কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে
নবী মেনেছেন এখন সমস্ত মুসলিমরা কি
মানবেন??
এখন আসা যাক সব থেকে মজার এবং হাস্যকর বিষয়
নিয়ে..
র্মীর্জা গোলাম আহমেদ সবার প্রথমে
মুহাম্মদে কল্কি পুরাণে এবং বেদে আছে বলে
দাবী করেন যেখান থেকেই জাকির নায়েক কপি
পেষ্ট করেছেন।এই র্মীর্জা গোলাম আহমেদ
আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তা যাকে কিন্তু
বেশীরভাগ
মুসলিমই কাফের বলে ঘোষনা দিয়েছেন।
আহমেদিয়া সমপ্রদায়েরা র্মীর্জা গোলাম
আহমেদকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানে।
এখন এই ইসলামিক পন্ডিতের কথা কি
আহমেদিয়া ব্যতিত কোন মুসলিম মেনে
নেবেন??কারন এখানেতো তাদেরই এক মুসলিম
পন্ডিত ঘোষনা করেছেন তাহলে তাদের মানতে
অসুবিধা কোথায় যদি শিরক বলে মানতে না চায় তবে
কেনইবা জাকির নায়েক বা অন্যরা সেই ব্যক্তির
লেখা বই পড়ে পুরাণ বেদে নবীর ভবিষ্যত
বাণী করা
আছে বলে দাবী করে!!অনেকে আবার বলে
যে কোথাকার
কোন হিন্দু পন্ডিত নাকি বলেছে পুরাণ বেদে
মুহাম্মদের কথা
আছে তাই হিন্দুদেরকে এটা মানা উচিত!! যদি কোন
এক হিন্দু পন্ডিতের কথাই মানতে বলেন তাহলে
তারাও কি মুহাম্মদ শেষ নবী নয় র্মীর্জা গোলাম
আহমেদ শেষ নবী এটা মেনে নেবেন কারন
এটাওতো তাদেরই পন্ডিত বলেছেন।!
এটা পরিষ্কার যে জাকির নায়েক বা অন্য কেউ তা
কোনদিনই মানবেন না বরং শিরক বলে দাবী
করবেন তাহলে ওই ব্যক্তির লেখা বই কপি পেষ্ট
কেন করছেন??
৯।আর বলা আছে তার বাবার হবে বিষ্ণুযশ যার অর্থ
সৃষ্টিকর্তার গোলাম।অপরদিকে নবী মুহাম্মদ এর
পিতার নাম আব্দুল্লাহ শব্দের অর্থও সৃষ্টিকর্তার
গোলাম!
ব্যাকরণে অতি দুর্বলতার লক্ষন হল এটি।বিষ্ণুযশ
শব্দের অর্থ "ঈশ্বরের মহিমা",সৃষ্টিকর্তার গোলাম
নয়।এছাড়া পদ্ম পুরাণ,সৃষ্টিখণ্ড (৬.২৪২.৮-১২) তে
বর্ণিত আছে
বিষ্ণুযশ প্রথমে স্বয়ম্ভু মনু(প্রথম সৃষ্ট মানুষ)
রুপে জন্ম গ্রহন করেছিলেন যিনি কঠোর
তপোস্যা করে ঈশ্বরের কাছ থেকে বর(ইচ্ছা)
প্রার্থনা করেছিলেন ঈশ্বর যেন তার পুত্র
রুপে আবির্ভুত হন। ঈশ্বর তাঁকে কথা দিয়েছিলেন
তিনি ৩ বার তাঁর পুত্র রুপে অবতীর্ণ হবেন
পরবর্তীতে দশরথ রুপে স্বয়ম্ভু মনু জন্ম গ্রহন
করেন এবং ঈশ্বর রাম রুপে তাঁর ঘরে অবতীর্ণ
হন তারপরে স্বয়ম্ভু মনু বাসুদেব রুপে জন্ম গ্রহন
করেন তখন ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ রুপে তাঁর ঘরে
অবতীর্ণ
হন এবং সর্বশেষে স্বয়ম্ভু মনু কলিযুগের শেষে
বিষ্ণুযশ রুপে
জন্ম গ্রহন করবেন এবং ঈশ্বর তখন তাঁর ঘরে
অবতীর্ণ হবেন।অপরদিকে মুসলিমরা তো
জন্মান্তরবাদেই বিশ্বাসী নন!সুতরাং মুহাম্মদকে কল্কি
অবতারের সাথে মেলাতে হলে আব্দুল্লাহকেও
স্বয়ম্ভু মনুর মতই তিনবার পুনর্জন্ম নিতে
হয় যে!
১০।কল্কি পুরাণ (৩৩.২০-২৬) অনুযায়ী সর্বশক্তিমান
ঈশ্বর সমস্ত যুদ্ধ শেষ করে পৃথিবীকে পাপমুক্ত
করে যখন বিদায় নেবেন তখন তিনি হিমালয় পর্বতে
তার চতুর্ভুজ রুপ (শঙ্খ,চক্র,পদ্ম,গদা সহ চার হত সহ
রুপ)ধারনপূর্বক গভীর ধ্যানে মগ্ন হবেন।সহস্র
সূর্যের ন্যায়
আলোকজ্জল হবে তার দেহ,দেবতারা পুপষ্পবৃষ্টি
করবেন।
তার দুই স্ত্রীও এই ঘটনার স্বাক্ষী হবে।
এখন কথা হচ্ছে মুহাম্মদকে কি মুসলিমরা ঈশ্বর
হিসেবে মানে?তার কি চতুর্ভজ রুপ আছে যেরকম
বিষ্ণুর রুপের বর্ণনা বিভিন্ন পুরাণে আছে?
কোন মুসলিমরাই এই কথা
মানবে না।সুতরাংমুহাম্মদ আর কল্কি অবতারকে এক
মনে
করা বোকামী ছাড়া আর কিছুই না।
আমার ব্যক্তিগত মত হল, মুহম্মদকে (সাঃ) ইসলাম নামক
ধর্মের একজন বার্তাবাহক
এবং মুসলিম জাতির নিকট তিনি নবীরাসূল। তাঁকে
হিন্দুদের কল্কি অবতার বানাতে গিয়ে জাকির নায়েক
ইসলাম বিরোধী অনেক কাজ করেছেন এবং
অনেক
কিছুর উপর নির্ভর বা বিশ্বাস স্থাপন
করেছেন ইসলামিক দৃষ্টিতে যাকে বলা হয় “শিরক”।
আর অন্যদের
দৃষ্টিতে যা অতি হাস্যকর!!

Writer and Editor Kanchan Das

সনাতন ধর্মে মদ্যপান করা কি বৈধ?

বিভিন্ন নাইট ক্লাব অার পুজোর সময় মদপান করাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধর্মীদের থেকে অামাদের ধুয়ো শুনতে হয়।

ধুয়ো শুনার জন্য মূলত অামরা নিজেরাই দায়ী, কারণ দেব বিগ্রহের স্থান অতি পবিত্র।
সেই পবিত্র স্থানেই অামরা মদপান করি অার অশ্লীল গানে নাচানাচি করি।
যার কারণে জেনেশুনে গালি কিংবা ধুয়ো শুনার ভাগীদার হয়ে যায়।
যা হোক সেই মদপান বা নেশাজাতীয় সনাতন ধর্ম সম্মত কিনা?
কিংবা তা অামাদের ধর্মে বৈধ কি না তা অবশ্যই অামাদের জানা দরকার।
অাসুন দেখি সেই সম্পর্কে অামাদের বৈদিক সংহিতা অার পবিত্র বেদ কি বলে?
পবিত্র ঋগবেদ ৮/২১/১৪ তে বলা হয়েছে---

(বাংলা সংস্কৃত)
→নকী রেবন্তঃ সখ্যায়া বিন্দসে পীয়ন্তি তে সুরস্বঃ।
→য়দা কুয়োসি নদানু সমূহস্যাদিত পিতেব হূয়সে।।

(হিন্দি সংস্কৃত)
→नकी रेवन्तं सख्याय विन्दसे पीयन्ति ते सुराश्वः ।
→यदा कृणोषि नदनुं समूहस्यादित्पितेव हूयसे ॥

★বঙ্গানুবাদ-তোমার নেশাকারী সঙ্গী/বন্ধু যদি সবচেয়ে বিদ্বান বা ধনীও হয় তারপরও বজ্রপাততূল্য এবং অবশ্য পরিত্যজ্য।

এখানে উক্ত মন্ত্র অনুসারে বুঝা যাচ্ছে নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি ধনী কিংবা বিদ্ধান হলেও তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।

-

সুতরাং মদপান নিষিদ্ধ সনাতন ধর্মে।

Writer and Editor  Kanchan Das

সনাতন ধর্ম ও বাল্যবিবাহ

★আজকে আপনাদেরকে জানাবো সনাতন ধর্মের
পবিত্র বেদ বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সবাই কি
শিক্ষা দিচ্ছে?

★অনেক ব্যক্তিই আছে সমাজে যারা কেবল
কয়েকজন ব্যক্তির উদাহরণ টেনে বলে অমুক
মানুষ কম বয়সি মেয়েকে বিবাহ করেছেন।
তারা ভদ্র লোকের মতো আপনার সামনে
খাড়া করে একটি যুক্তি তুলে দেই তাহলো--

যদি ধর্মে না থাকতো তবে ঐ মানুষটি
(ছেলে বা মেয়ে) অল্প বয়সি মেয়ে কিংবা
ছেলে বিবাহ করলো কেনো?

★এখানে যদি আমি অভদ্রের মতো একটা
যুক্তি খাড়া করে দিই তাহলে তো ভদ্র
লোককে টর্চ লাইট দিয়ে দিনের বেলায়
খুজতে হবে।

★আমার অভদ্র যুক্তিটি হলো--

যদি ধর্মে না থাকতো তাহলে ঐ মানুষটি
(ছেলে বা মেয়ে) কেনো যুবক বা যুবতি অবস্থায়
বিবাহ করল??

★এবার আসি পবিত্র বেদ এ বাল্যবিবাহ
স্বীকৃত দিচ্ছে কি না।
.
★পবিত্র ঋগ্বেদ--৩/৮/৪

যুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ স উ শ্রেয়ান্
ভবতি জায়মান্।
তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়স্তি স্বাধ্যোত মনসা
দেবয়ন্তঃ।।
.
★বঙ্গানুবাদ -- যাহারা ব্রহ্মচর্য্য ধারণ এবং
বিদ্যা ও শিক্ষা গ্রহণ করেন না, অথবা
বাল্যবস্থায় বিবাহ করেন, সেই স্ত্রী পুরুষ
নষ্ট এবং ভ্রষ্ট হইয়া বিদ্ধানদিগের নিকট
হইতে প্রতিষ্টা লাভ করিতে পারেনা।
.
★উক্ত মন্ত্রটিতে সকল ব্যাক্তিকে ব্রহ্মচর্য্য
পালন পূর্বক বিদ্যা ও শিক্ষা গ্রহণ করতে
বলা হচ্ছে। এবং বাল্যবস্থায় যে বিবাহ
করবে সে কখনো প্রতিষ্টা লাভ করতে
পারবেনা।
.
.
★পবিত্র ঋগ্বেদ ৩/৫৫/১৬

আ ধেনবো ধুনয়ন্তামশিশ্বীঃ শবদুর্ঘাঃ
শশয়া অপ্রদুগ্ধাঃ।
নব্যানব্যা যুবতয়ো ভবন্তীর্মহদ্দেবার্নামসুরত্বমেকম্ঃ।।

★বঙ্গানুবাদ -- কখনো ভ্রমক্রমে এবং
বাল্যবস্থায় মনেও পুরুষের ধ্যান করিবেন না,
কারণ উক্তরুপ ইহকাল ও পরকালের সুখসাধন
হইয়া থাকে, বাল্যবিবাহ হইতে পুরুষ অপেক্ষা
নারীর নাশ বেশিই হইয়া থাকে।

★উক্ত মন্ত্র একজন নারীকে বলা হচ্ছে
বাল্যবস্থায় কখনো পুরুষকে কামনা
করিবেনা। এবং বাল্য বিবাহের ফলে পুরুষ
অপেক্ষা নারীর বেশি ক্ষতি হয়।
আমরা সকলেই এই বিষয়ে অবগত যে অল্প
বয়সে কোন মেয়েকে বিবাহ দিলেও সন্তান
জন্মদানের সময় বেশিরভাগ মেয়েই মৃত্যুমুখে
পতিত হয়। উক্ত মন্ত্রে এই দিকটিই
নির্দেশিত হয়েছে।
.
.
★ ঋগ্বেদ ১/১৭৯/১

পূর্ব্বীরহং শরদঃ শশ্রামাণাঃ দোষাবস্তো
রুষসো জরয়ন্তীঃ।
মিনাতি শ্রিয়ং জরিমা তনূনামপ্যূ নু
পত্নীর্বৃষনো জগমূঃ।।

বঙ্গানুবাদ ---আমি নিশ্চই করিতেছি যে
ব্রহ্মচর্য্য হইতে বিদ্যা,শিক্ষা,শরীর ও
আত্মীয় বল এবং যুবাবস্থা প্রাপ্ত হইয়া
বিবাহ করিব। ইহার বিরুদ্ধানুষ্টান বেদ
বিরুদ্ধ হওয়াতে কখনো সুখদায়ক হইতে
পারেনা।

উক্ত মন্ত্রে একজন ব্যক্তি প্রার্থনা করছে
যে সে যুবক অবস্থায় বিবাহ করিব, এবং সে
আরো বলেছে সে বিদ্যাগ্রহণ এবং ব্রহ্মচর্য্য
পালন করে যুবাবস্থায় বিবাহ করবে, এবং সে
ব্যক্তি আরো বলতেছে যে বাল্যবিবাহ
বেদবিরুদ্ধ অনুষ্ঠান তা কখনো সুখদায়ক হতে
পারেনা।

★তাহলে বোঝা গেলো পবিত্র বেদ
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে।
.
.
Writer and Editor Kanchan Das

সনাতন ধর্ম

‎ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখতে কেমন ছিলেন?- মহাভারতের আলোকে জানুন
‎

‎" শ্রীকৃষ্ণ" এই নামটি শুনতে যেমন শ্রুতিমধুর তেমনি এই নামধারীর দর্শনও চক্ষুদ্বয়কে আনন্দ দিতো। আর তাই তো হস্তিনাপুরে শ্রীকৃষ্ণ যখন যুদ্ধের বদলে সন্ধি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসবেন এমন সংবাদ রাজা ধৃতরাষ্ট্র পেয়েছিলেন তখন তিনি পরম আনন্দে বলেছিলেন-

‎‎চক্ষুষ্মতাং বৈ স্পৃহয়ামি সঞ্জয়! দ্রক্ষ্যন্তি যে বাসুদেবং সমীপে।
‎‎বিভ্রাজমানাং বপুষা পরেণ প্রকাশয়ন্তং প্রদিশা দিশশু ॥৬২॥
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৬৬/৬২]

‎‎=> (ধৃতরাষ্ট্র): হে সঞ্জয়! যারা শ্রীকৃষ্ণকে অতি নিকট থেকে দর্শন করবেন আমি সেই দর্শনার্থীদের সৌভাগ্য কামনা করি। কারণ শ্রীকৃষ্ণ পরমসুন্দর দেহ দ্বারা বিরাজিত এবং নিজের কান্তি দ্বারা তিনি দ্বিগ্বিদিক আলোকিত করবেন।

‎‎রাজা ধৃতরাষ্ট্র কেবল এতটুকু বলেই ক্ষান্ত ছিলেন না। তিনি ঘোষণা করলেন-

‎‎সন্ত্রীপুরুষ বালঞ্চ নগরং মধুসূদনম্। উদীক্ষতাং মহাত্মানং ভামনুস্তমিব প্রজা॥১৭৷
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৮০/১৭]

‎‎=> (ধৃতরাষ্ট্র): মানুষ যেমন সূর্যকে দর্শন করে তেমনি নগরের স্ত্রী, পুরুষ, বালকেরা শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করুক।

‎‎তাই শ্রীকৃষ্ণ যেদিন হস্তিনাপুরে এসেছিলেন সেদিন একটিবার তাঁর দর্শন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সকল প্রজা গৃহ ছেড়ে রাজপথে ভিড় করেছিল।

‎‎ন চ কশ্চিদ্‌ গৃহে রাজংস্তদাসীন্তরতর্ষভ।
‎নস্ত্রী ন বৃদ্ধো ন শিশুর্বাসুদেবদিদৃক্ষয়া ॥৮॥ [উদ্যোগ পর্ব -৮২/৮]

‎‎না। শ্রীকৃষ্ণ যখন হস্তিনাপুরে প্রবেশ করলেন তখন তাঁকে দেখবার ইচ্ছায় বালক, বৃদ্ধ, স্ত্রী কেউই আর ঘরের ভিতর ছিল

‎‎কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য এতো উৎসুক কেন ছিল সবাই? সত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী যারা তাদের কাছে এপ্রশ্ন বাহুল্য মাত্র। যোগেশ্বরের রূপসৌন্দর্যের বর্ণনা শ্রবণ করলে আমার পূর্বোক্ত কথার যথার্থতা উপলব্ধি করতে আপনাদের কষ্ট হবে না। শ্লোকাংশ ও শ্লোক উদ্ধৃত করা হলো:

‎‎কৃষ্ণমায়ন্তং প্রসন্নাদিত্যাবর্চ্চসম্।

‎‎শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন সূর্যের ন্যায় প্রসন্ন নির্মল তেজযুক্ত। [উদ্যোগ পর্ব ৮৩/২]

‎‎উদ্যন্মেঘস্বনঃ কালে প্রগৃহ্য বিপুলং ভুজম্।

‎‎শ্রীকৃষ্ণের স্বর ছিল সজল মেঘের ন্যায় অথচ গম্ভীর ধ্বনিযুক্ত। তাঁর ভূজন্বয় ছিল বিশাল।
‎‎[উদ্যোগ পর্ব ৮৪/১৭]

‎

‎বাক্যমভ্যাদদে কৃষ্ণঃ সুদংষ্ট্রো দুন্দুভিস্বনঃ

‎‎সুন্দরদম্ভশালী ও দুন্দুভির ন্যায় মধুরধ্বনি যুক্ত শ্রীকৃষ্ণ সভামধ্যে কথা বলতে শুরু করলেন।
‎‎[উদ্যোগ পর্ব- ৮৮/১]

‎‎রাজীবনেত্রঃ

‎‎শ্রীকৃষ্ণের চক্ষুদ্বয় ছিল পদ্মের ন্যায়।
‎‎[উদ্যোগপর্ব- ৮৪/১৮]

‎‎অতসীপুষ্পসংকাশঃ পীতবাসা জনার্দনঃ।

‎‎ব্যরাজত সভামধ্যে হেন্নীবোপহিতো মণিঃ ॥৬৫॥

‎‎=>(নীল) অতসীপুষ্পের ন্যায় নীল বর্ণযুক্ত, পীতবর্ণের বস্ত্রপরিহিত শ্রীকৃষ্ণ যেন সভামধ্যে স্বর্ণের উপরে সংস্থাপিত ইন্দ্রনীলমণির ন্যায় শোভা পাচ্ছিলেন।

‎‎[উদ্যোগ পর্ব ৮৭/৬৫]

‎‎অবশ্য মহাভারতের আরেকটি স্কুলে পাওয়া যায়-

‎‎কৃষ্ণবর্ণশ্চ মে যম্মাত্তস্মাৎ কৃষ্ণোহহমৰ্জ্জুনম

‎‎-> (শ্রীকৃষ্ণ): "যেহেতু আমার কৃষ্ণবর্ণ সেহেতু আমি কৃষ্ণ।"

‎‎[শান্তিপর্ব - ৩২৮/২৬৫, স্বয়ং বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বিধায় এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য যে শ্রীকৃষ্ণ শ্যাম বর্ণের।]

‎যার এমন শ্যাম গাত্রবর্ণ, স্নিগ্ধ অঙ্গকান্তি অথচ তা রৌদ্রজ্বোল, যার কণ্ঠ বর্ষার মেঘের ন্যায় গম্ভীর, দৃপ্ত অথচ শ্রুতিমধুর, যার ব্যক্তিত্বের কাছে পর্বতমালাও ধূলিকণাসম অথচ সারল্য কোনো এক অনন্তকালের বাল্যবন্ধুর মতো, এমনকি চিত্তবিভ্রান্ত শত্রুকেও যিনি পরম স্নেহপূর্বক ধর্মমার্গে চলার উপদেশ দেন সেই যোগেশ্বরের সাথে কোনো এক কল্পে বা জন্মান্তরে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য হবে কি?

‎
‎সন্দর্ভ- মহাভারত: হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ

‎‎বাংলাদেশ অগ্নিবীর
‎সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক।

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪

শৌচকার্য করার পর কি করা উচিত??

✅প্রশ্ন---- হিন্দু ধর্মে শৌচকার্য করার অাগে ও পরে কি কি করতে হবে এই ব্যপারে কোন গাইড লাইন অাছে কি না?
______________________________________
✅উত্তর---- প্রশ্নটি শুনে হয়তো অনেকে হাসবেন, অাসলে এসব খুটিনাটি বিষয় নিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা অাপনাকে খোঁচা দিতে কিন্তু দুইবার ভাববেনা, তাই এসব বিষয়ে জানা অামার অবশ্য কর্তব্য। 🙏🏿
প্রথমত অামাদের জানতে হবে যে কোন জাতীয় স্থানে শৌচকার্য করতে নেই। এই সম্পর্কিত নির্দেশ নিম্নরুপ---
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৫
→নান্নমদ্যাদেকবাসা ন নগ্নঃ স্নানমাচরেৎ।
→ন মূত্রং পতি কুর্ব্বীত ন ভস্মনি ন গোব্রজে।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
--- এক বস্ত্র পরিধান করিয়া ভোজন করিবেনা। উলঙ্গ হইয়া স্নান করিবেনা, পথিমধ্যে বা ভস্মে বা গোষ্টে (গো-চারণ ভূমিতে) প্রস্রাবাদি পরিত্যাগ করিবেনা।
.
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৬
→ন ফালকৃষ্টে ন জলে ন চিত্যাং ন পর্ব্বতে।
→ন জীর্ণদেবতায়নে ন বল্মাকে কদাচন।
.
*বঙ্গানুবাদ*
---- ফাল দ্বারা বিদারিত ভূমিতে, জলেতে, চিতাতে, পর্ব্বতে, ভগ্নদেবগৃহ এবং বল্মীক স্থানে কখনো কোনমতেই মল ত্যাগ করিবেনা।
.
.
👉🏻মনুস্মৃতি - ৪/৪৭
→ন সসত্ত্বেষু গর্ত্তেষু ন গচ্ছান্নাপি চ স্থিতঃ।
→ ন নদীতীরমাসাদ্য ন চ পর্ব্বত মস্তকে।
.
*বঙ্গানুবাদ*
---- সর্পাদির গর্তে বা গমন করিতে করিতে বা দন্ডায়মান থাকিয়া বা নদীতীরে বা পর্ব্বতের শিখরদেশে মলমূত্র পরিত্যাগ করিবেনা। অত্যন্ত অার্ত্ত ব্যক্তি কখন কখন শৃঙ্গ ব্যতিরিক্ত পর্ব্বত প্রদেশে মলাদি ত্যাগ করিতে পারে।
.
→এবার দেখে নিতে হবে শৌচকার্য করার পর কীভাবে শুদ্ধ হইবে---
.
👉🏻মনুস্মৃতি- ৫/১৩৬
→ একা লিঙ্গে গুহ্যে তিস্রন্তথৈকত্র করে দশ।
→উভয়ো সপ্ত দাতব্যা মৃদঃ শুদ্ধিমভীপ্সতা।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
----- বিষ্টামূত্র ত্যাগ করিয়া গোপানাঙ্গে একবার, অপানে (গুহ্যে) তিনবার, বামকরে দশবার ও উভয়হস্তে সাতবার মৃত্তিকা ও জল প্রদান করিবে, যদি একবার প্রক্ষালনেই গন্ধ যায় তথাপিও উক্ত সংখ্যা পূর্ণ করিবে।
.
এরপর অন্য একটি শ্লোকে বলা হয়েছে---
👉🏻মনুস্মৃতি - ৫/১৩৮
→কৃত্বা মূত্রং পুরীষং বা ঋান্যচান্ত উপস্পৃশেৎ।
→বেদমধ্যেষ্যমানশ্চ অন্নমশ্নংশ্চ সর্ব্বদা।।
.
*বঙ্গানুবাদ*
----- বিষ্টামূত্র ত্যাগ করিয়া বিধিমত শুদ্ধ হইবে। এবং আচমন করিয়া ইন্দ্রিয়াচ্ছিদ্
র সকল স্পর্শ করিবে, বেদাধ্যয়ণ করিতে ইচ্ছা হইলে দ্বিতীয় অধ্যায়ে (মনুসংহিতা ২য় অধ্যায়) যে আচমন করিবার বিধান আছে। সে ব্রতের অঙ্গ জানিবে এবং অন্ন ভোজন করিয়া এই প্রকার আচমন করিতে হইবে।
.
Writer & Editor Kanchan Das

মনুস্মৃতি ৯/৩ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব

সাম্প্রতিক সময়ে মনুসংহিতার নবম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শ্লোকটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। শ্লোকটি হলো: পি...