রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৭

চরিত্রাহীনা নারী সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রের বিধান

অাজকাল অনেক ব্যক্তিকে দেখা যায় সনাতন ধর্মের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে।

হ্যা সনাতন ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার অধিকার সকল মানবজাতির অাছে, হোক তিনি সনাতন,ইসলাম,বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান।
কেননা সনাতন ধর্ম সবাইকে বলে "মানুষ হতে,এবং অপরকেও মানুষ রুপে গড়ে তুলতে "

এই লিখাটা নারী জাতিকে হেয় করার জন্য নয়, কেবল নারী জাতির মধ্যে যারা কুকর্মে লিপ্ত তাদের জন্য।

কারণ অামাদের মনে সর্বদা প্রশ্ন থাকে যে সনাতন ধর্মে কি বিবাহের পর বর-কন্যা কাউকে কেউ পরিত্যাগ করতে পারে?
কিংবা পারলে বা কেমন করে?
কিংবা কেনো পারবেনা?

প্রথমত কথা হলো অামার স্ত্রী যদি দুশ্চরিত্রা হয় তবে তাঁর সঙ্গে কি অামার সম্পর্ক রাখতে হবে নাকি সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে?

এটা সহজেই বলা যায় যে কারো স্ত্রী যদি পরকিয়া কিংবা চরিত্রাহীন হয় তবে সেই চরিত্র হীন নারীর সাথে সংসার করাটা মোটেও সম্ভব না।

যেকোন কিবেকবান মানুষের প্রশ্ন যে সনাতন ধর্ম কি এমন প্রশ্নের সমাধান দিতে পারে যে "চরিত্রাহীন নারীর সাথে কি বিচ্ছেদ হতে পারে??"

হ্যা বিবেকবান ব্যক্তি এই প্রশ্নের সমাধান সনাতন ধর্ম দিতে পারে।

দেখে নেয়া যাক সনাতন ধর্ম কি বলে এই বিষয় সম্পর্কে?

স্মৃতিশাস্ত্র পরাশর সংহিতা ১০/৩০
→জারেণ জনয়েদ্গর্ভং গতে ত্যক্তে মৃতে পতৌ।
→তাং ত্যজেদপরে রাষ্ট্রে পতিতাং পাপকারীণীম্।।

*বঙ্গানুবাদ*
"পতি বিদেশ গমন করিলে, কিংবা পতিকে পরিত্যাগ করিয়া অথবা পতির মৃত্যুর পর অন্যের সংযোগে যে রমণী গর্ভধারণ করে সেই পতিতা পাপকারিণীকে পর রাজ্যে পরিবর্জ্জন করিবে।

*ব্যাখা*
উক্ত শ্লোক দেখলে সহজে বুঝা যাচ্ছে যে যে নারী স্বামী ছেড়ে পর পুরুষের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয় তাঁকে এক কথায় বলা হচ্ছে পতিতা। সেই চরিত্রাহীনা নারীকে পরদেশে কিংবা অন্য স্থানে নির্বাসিত করার কথা বলা হচ্ছে।

এর ঠিক পরের শ্লোকে অর্থাৎ পরাশর সংহিতা ১০/৩১
→ব্রাহ্মণী তু যদা গচ্ছে্ৎ পরপুংসা সমন্বিতা।
→সা তু নষ্টা বিনির্দ্দিষ্টা ন তস্যাহমনং পুনঃ।।

*বঙ্গানুবাদ*
"কোন ব্রাহ্মণী(নারী) যদি পর পুরুষের সহিত চলিয়া যায়, তবে তাহাকে নষ্টা বলে, পুনর্ব্বার তাহার গৃহে প্রত্যাবর্ত্তন হইতে পারে না।"

*ব্যাখ্যা"
উক্ত শ্লোক অনুসারে দেখা যাচ্ছে --যে নারী পরপুরুষের সাথে চলে যায় তাকে বলা হচ্ছে নষ্টা। এবং তাঁকে পুনরায় বাড়িতে ঢুকতে না দেয়ার জন্য শাস্ত্র নির্দেশ দিচ্ছে।

উক্ত দুইটা শ্লোক দেখলে স্পষ্ট অনুমেয় যে চরিত্রাহীনা নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথায় বলা হচ্ছে। 

এবার অনেকেই বলবেন সনাতন ধর্মে বিবাহ সাত জন্মের বন্ধন।

কিন্তু অাপনাদের এও মনে রাখা উচিত যে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকলে সাত জন্ম কেনো সাত হাজার জন্মের বন্ধন হতে পারে।

(ভূলক্রটি মার্জনীয়)

Writer & Editor Kanchan Das

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

পরমেশ্বরের পা থেকে শূদ্র শ্রেণীর জন্ম নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব

ইদানিং দেখা যায় বেশ কিছু ব্যক্তি নিজেদের সব্বোশ্রেষ্ট বলে বেড়ায়, তারা অারো বলে এনারাই সনাতন ধর্মে  অন্য সকলের থেকেও উচু। বাকীরা নিচে। কারণটা এক সেটা হলো পবিত্র বেদের একটা মন্ত্র, যদিওবা পবিত্র বেদমন্ত্রটি ঠিক কি নির্দেশ করেছে তা অামাদের জ্ঞানের পরিসীমার বাইরে। অার অামাদের পার্শ্ববর্তী মুমিনরাও মন্ত্রটাকে নিয়ে সনাতন ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে দ্বিধা করেনা। তাদের জ্ঞাতার্থে এটা অানতে হলো।
উক্ত মন্ত্রটা নিম্নরুপ-----
:
-----ব্রাহ্মণোহস্য মুখমাসীৎ
বাহূ রাজন্যঃ কৃতঃ।
-----ঊরূ তদস্য যদ্বৈশ্যঃ
পদ্ভ্যাং শূদ্রো অজায়ত।।
:
★অনুবাদ- ব্রহ্মপুরুষের মুখ হতে ব্রাহ্মণ, বাহু হতে ক্ষত্রিয়, ঊরু হতে বৈশ্য এবং পা থেকে শূদ্রের উৎপত্তি। :
★(ঋগ্বেদ ১০/৯০/১২)
:
:
★বিচার★
:
-------নিজেদের দেবসন্তান বা বীর সন্তান কল্পনা করবার আগে একটু সুস্থভাবে এবং স্বাভাবিক ভেবে দেখুন। দেহের পক্ষে চতুর্বিধ অঙ্গ সমানভাবে অপরিহার্য্য। দেহের স্বাস্থ্য এবং শক্তি ( ধী,বাহু,ধারণ,চলৎ) বড় কথা, আমাদের মাথা বড়, না পা বড়- এটি মূর্খদের ছেলেমানুষি তর্ক মাত্র।
.
আবার দেহের পক্ষে যা সত্যি, সমাজদেহের পক্ষেও তা-ই সত্যি।যে কোনও সমাজব্যবস্থা বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চলতে হলে ধীশক্তি,বাহুশক্তি,ধারণশক্তি এবং চলৎশক্তি সমানভাবে প্রয়োজন।
.
এই চতুর্বিধ শক্তির বাস্তব প্রতিনিধিদের নাম হল ব্রহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য, শূদ্র। আমার পা যদি চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলে, সেক্ষেত্রে আমার বিশাল মস্তিষ্ক অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাবে তখন আমার মস্তিষ্ক প্রসূত হাজারো বুদ্ধি কি-ভাবে বাস্তবায়িত হবে?
আমার দুই হাত যদি বাইরের বাধাবিপত্তি সরিয়ে দিতে না- পারে, তখন আমার মস্তিষ্কের উর্বরতা বা পায়ের সচলতা কি কাজে, কিভাবে লাগবে?
:
গুণ ও কর্মের এই বিভাগ অবশ্যম্ভাবী এবং অপরিহার্য্য।এই অনুযায়ী আমাদের চার বর্ণের অবস্থিতি। কিন্তু পরবর্তীকালে বংশানুক্রমিক জাতিভেদের প্রথার যে উৎপত্তি হল তা এই গুণকর্ম বিভাগেরই বিকৃত রূপ মাত্র।প্রত্যেক সমাজ এবং কর্ম ব্যবস্থায় গুণকর্মের এই বিভাগ শাশ্বত এবং সনাতন, তবুও জাতিভেদপ্রথা হল স্বার্থপর ধর্মব্যবসায়ী মানুষের তৈরী এবং যা নিয়ে মানুষে মানুষে চিরকাল বিবাদ হানাহানি হয়েছে এবং হবে।
:
গুণকর্মের এই বিভাগ এই বেদমন্ত্রে আমরা প্রত্যক্ষ করি, আর যারা এই মন্ত্রের মধ্যে জাতিভেদ প্রথার সূত্রপাত অবিষ্কার করেন, তারা এই মন্ত্রের অপব্যাখ্যা করেন মাত্র।
:
চরম অনুতাপের বিষয় এই যে, এই ভার্চুয়াল ফেসবুকের জগতেও কিছু কিছু হিন্দু সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষ প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে বর্ণ, সম্প্রদায়, জাত নিয়ে সারমেয়দের মত কামড়াকামড়ি করতে তৎপর, যদিও তাদের নিজেদেরও অস্তিত্ব ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে,তবুও তারা কামড়াকামড়ি থেকে বিরত থাকছেনা, কারণ তার নিজেদের বৈদিক হিন্দু না মনে করে অন্য কিছু ভাবতে বেশী পছন্দ করেন।
হিন্দু ঐক্যের কথা চিন্তা করে সকল হিন্দুদের কাছে অনুরোধ এদের থেকে তফাৎ থাকুন।
:
যেখানে অামাদের অস্তিত্ব বিপন্ন সেখানে অাছি জাতপাত নিয়ে।

>>>>> Kanchan Das<<<<<

শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭

ধর্ম পালন করতে গিয়ে সমালোচিত হবে না


সাধু সাবধান! ধর্ম পালন করতে গিয়ে সমালোচিত হবেন না। কোনটি উচিত আর কোনটি অনুচিত সেগুলো ধর্ম পালনের পূর্বে চিন্তা করুন। নিজে সতর্ক হয়ে অন্যকে সতর্ক করুন।

মাঝে মাঝে কয়েকটি বিষয়ে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হই ।
আমরা জানি যে অধিকাংশ হিন্দু পাড়া গুলোতে সাপ্তাহিক হরিসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে সন্ধ্যা আরতি থেকে শুরু করে গুরুর গান, গৌর আরতি, দেহতত্ত্ব, পঞ্চতত্ত্ব, ভক্তিগীতি, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও ভাগবত পাঠ সহ ভিবিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় আমি আমার নিজ এলাকা সহ বেশকিছু এলাকায় খেয়াল করি যে হরিসভার মধ্যবর্তী সময়ে মুড়ি, চানাচুর , চা, পান ইত্যাদির জল খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে উপস্থিত ভক্ত বৃন্দদের জন্য।

উক্ত খাবার গুলো খাওয়া শেষে আবার তারা হরিসভা শুরু করে। হরিসভা বলুন আর গোবিন্দের সেবা বলুন আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ভক্তি সহকারে গোবিন্দের সেবা করা এবং ঠাকুর ঘরে যদি অন্যান্য দেব-দেবী থাকে তাদের সাথে গুরু সেবা দেওয়া। পাশাপাশি কিছু ভক্তিমূলক গান, হরিনাম সংকীর্তন, গীতা পাঠ সহ ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক আলোচনা করা এবং পূজার শেষ প্রসাদ নেওয়া।
.
এখন প্রশ্ন হলো মাঝখানে চা, মুড়ি, চানাচুর, এমনকি পান সিগারেট দিয়ে যে জলখাবারে পর্ব আয়োজন করা হয় তাকে কি আপনি ধর্ম পালন ব্যবস্থার নিয়ম হিসেবে স্বীকৃতি দিবেন নাকি নিয়মের বাহিরের কর্ম কান্ডে স্বীকার করবেন ??

আমাদের ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে খাবারের উচ্ছিষ্ট বলে একটা কথা প্রায় শুনা যায়। হরিসভার মাঝখানে এইসব মুড়ি, চানাচুর, চা, পান খেয়ে একই জায়গায় বসে মৃদঙ্গ, করতাল, কাসা, জুড়ি ও হারমুনিয়াম দিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করা ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে কতটুকু শুদ্ধতা বজায় থাকে তা আপনারই ভাল বলতে পারেন।
:
পরের বিষয়টি পড়ার পর বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কিছু নামধারী বৈষ্ণব আমাকে গালমন্দ করতে এক মিনিটও সময় নিবে না। কিন্তু তাতে কি? সঠিক নিয়মে আসার জন্য ভুলকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। মহোৎসবে গোবিন্দ, জগন্নাথের ভোগের শেষে যে প্রসাদ ভক্তদের মাঝে বিতরন করা হয় তাই মহাপ্রসাদ। আচ্ছা, ধরুন অদ্য দিবসে আপনার বাড়িতে মহোৎসব, এক হাজার ভক্তের জন্য প্রসাদ তৈরি করতেছে পাঁচ থেকে ছয় জন বৈষ্ণব। আপনার হঠাৎ চোখে পড়লো কয়েকজন বৈষ্ণব মহাপ্রসাদ রান্নার চলাকালীন সময়ে মুখে পান সুপারি দিয়ে বেশ চিবাচ্ছে অথবা চা কিংবা কোল্ড ড্রিংকস খেয়ে প্রশান্তি নিচ্ছে। সত্যি করে বলুনতো বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখবেন?

নামধারী ঐসব বৈষ্ণবরা কি শুদ্ধতা ও সঠিক নিয়মকানুন মেনে মহাপ্রসাদ রান্না করতেছে ? নাকি শুধু ভোগের জন্য আলাদা করে পরিমাণ মতো তৈরি করে ভক্তদের জন্য চিরাচরিতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধতা ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দায়িত্ব পালন করতেছে। আমি মনে করি এসবের জন্য শুধু নামধারী
বৈষ্ণবদের দোষারপ না করে নিজদেরকে (আয়োজনকারী) সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই সীমাবদ্ধতা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা। আর তা না হলে ধর্ম পালন করতে গিয়ে এই ধরনের ভুল ত্রুটি বংশ পরম্পরাক্রম যেইভাবে চলে আসতেছে সেইভাবে ভবিষৎ প্রজন্মে চলতে থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৭

★বৃক্ষরোপণ ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধন সম্পর্কে সনাতন ধর্মের মতামত কি?

★অামরা খুব সরল দৃষ্টি দিয়ে দেখলে বুঝবাে যে সনাতন ধর্মের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে অরণ্য। বৈদিক জ্ঞান আরণ্যকের জন্ম এই অরণ্য থেকেই। ঋষিদের নিভৃত সাধনার জায়গাগুলোর মধ্যে অরণ্য অন্যতম। শুধু তাই নয় হিন্দুদের আচারের ভিতরে রয়েছে এধরনের বৈশিষ্ট্য বটবৃক্ষ, ফুল, লতা-পাতা সব নিয়েই হিন্দু তার পূজার আয়োজন করে থাকে। সঙ্গত কারণেই হিন্দু ঋষিগণ বৃক্ষরোপণের ওপর যেমন জোর দিয়েছেন তেমনি বৃক্ষনিধন করতে শুধু নিষেধই করেননি, বৃক্ষনিধনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করেছেন।
.
★বৃক্ষরোপণে হিন্দুধর্মের নির্দেশ:-
_____________________________
.
১) উদ্ভিদাদি রোপণ ও পরিচর্যা করলে ভূমিদান ও গোদানের সমতুল্য পুণ্য অর্জিত হয়।
(বরাহ পুরাণ, ১৭২/৩৫)
.
২) যে ব্যক্তি একটি অশ্বত্থ, একটি নিম, একটি বটবৃক্ষ, দশটি পুষ্পবিরুৎ, দাড়িম্ব, লেবু গাছ, পাচটি আম্র চারা রোপণ করে তাদের যত্নের সাথে বৃদ্ধি করে তাকে কখনই নরকে যেতে হয় না।
(বরাহ পুরাণ, ১৭২/৩৬)
.
৩) যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তি একটিমাত্র গাছও রোপণ করেন তবে তিনি ব্রহ্মসদনে যাবার অধিকার অর্জন করেন এবং তার তৃতীয় পুরুষ পর্যন্ত সেই ফল ভোগ করে। (ব্রহ্মনারদীয় পুরাণ, ১৩/৫২)
.
.
→বৃক্ষনিধন সম্পর্কে সনাতন ধর্মের মত :
____________________________________
.
১) যদি কেউ স্বীয় রন্ধনের উদ্দেশ্যে জ্বালানির জন্য সবুজ কাচাগাছ ভূপাতিত করে তবে তাকে চরম পতিত বলে গণ্য করা হবে।
(মনুসংহিতাঃ-  ১১/৬৬)
.
২) কোন বৃক্ষের বিস্তারিত শাখা বা যে সকল বৃক্ষ প্রয়োজনীয় ও উপকারী তার শাখা, কাণ্ড, মূল ছেদন করলে অপরাধের মাত্রানুযায়ী তার জরিমানা কুড়ি,চল্লিশ বা আশি কার্ষাপণ ( ষোলপণ বা এক কাহন )। কেউ পবিত্র স্মৃতি সৌধ, শ্মাশানভূমি, উপাসনাপ্রাঙ্গণ, পবিত্রস্থানের সীমানা নির্দেশকারী বৃক্ষ বা তার শাখা, কাণ্ড বা মূল ছেদন বা বিদীর্ণ করে তার জরিমানের হার উপর্যুক্ত জরিমানার দ্বিগুণ হবে।
(যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতাঃ- ২/২৩০)
.
৩) খনি, শিল্পকারখানা, বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণের জন্য যন্ত্রচালিত উপায়ে বড়ো বড়ো বৃক্ষের উৎসাদন করবে তাদের একঘরে করা হবে।
(যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতাঃ- ২/২৩১)
.
.
★এমনকি পরিবেশ রক্ষায় নগর পরিষ্কারের কথা মহর্ষি মনু সোজা ভাষায় বলে গেছেন-
নগর বা গ্রামের আবাসিক এলাকা থেকে অনেকদূরে মলমূত্র, দেহ প্রক্ষালনের জল, খাদ্যের অবশিষ্টাংশ, স্নানাগারের বর্জ্য জল অপসারিত করতে হবে।
(মনুসংহিতাঃ- ৪/১৫১)
.
.
Writer & Editor Kanchan Das

শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৭

শ্রীগীতায় উল্লেখিত "স্বধর্ম" মানে কি??

প্রসঙ্গ:- পবিত্র গীতাই স্বধর্ম বলতে কি বুঝানো হয়েছে???
.
আজকাল দেখা যাচ্ছে কিছু ব্যক্তি শ্রীগীতার ৩/৩৫ নিয়ে একটু বেশিই চুলকাচ্ছে।
.
★উক্ত শ্লোকটি নিম্নরুপ---
→শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুনঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্টিতাৎ।
→স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরধর্মো ভয়াবহঃ।।
.
★বঙ্গানুবাদঃ- " স্বধর্মের অনুষ্টান দোষযুক্ত হইলেও উত্তমরুপে অনুষ্টিত পরধর্ম থেকে উৎকৃষ্ট। স্বধর্ম সাধনে যদি মুত্যুও হয় তাও মঙ্গলজনক, কিন্তু অন্যের ধর্মের অনুষ্টান করা বিপজ্জনক।"
.
→কিছু ব্যক্তি এই বলে প্রচার করে বেড়ায় যে #সনাতন ধর্মে শাস্ত্র নির্দেশ দিয়েছে সনাতন ধর্ম খারাপ হলেও সেটা পালন করা উচিত"।
.
★উক্ত বক্তবটি বিধর্মীরা করে থাকে।
তারা উক্ত শ্লোকে স্বধর্ম বলতে বুঝেছে বর্তমানে প্রচলিত সনাতন ধর্ম,ইসলাম,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি কিংবা জৈন ধর্ম।
.
★কিন্তু এটা পুরোপুরি ভূল ধারণা। কেননা ঐখানে স্বধর্ম বলতে সনাতন ধর্মের চতুর্বর্ণের নিজ নিজ কর্মের কথা বলা হয়েছে। যেটাকে বিধর্মীরা প্রচলিত ধর্ম বলে মিথ্যাচার করতেছে।
.
উক্ত শ্লোকের ব্য্যখ্যা দিতে গিয়ে ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেছেন----
→পরধর্ম পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হয়ে স্বধর্ম আচরণ করাই মানুষের কর্তব্য। জড়া প্রকৃতির গুন অনুসারে শাস্ত্র নির্দেশিত অাচরণগুলি মানুষের দেহমনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সদ্গুরু যে আদেশ দেন সেটাই পরমার্থিক কর্তব্য। এই কর্তব্য সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা পরমেশ্বরের অপ্রাকৃত সেবা করে থাকি। কিন্তু পরমার্থিক হোক বা জাগতিক যাই হােক না কেনো অন্যের ধর্মের অনুকরণ অপেক্ষা মৃত্যুকাল পর্যন্ত স্বধর্মে নিষ্টাবান থাকা একান্ত কর্তব্য।  যেমন-- সত্ত্বগুনের দ্বারা প্রভাবিত ব্রাহ্মণ অহিংসা পরায়ণ, কিন্তু রজোগুনের প্রভাবে ক্ষত্রিয় প্রয়োজন হলে হিংসার অাশ্রয় নিতে পারেন, স্বধর্ম আচরণ করে ক্ষত্রিয়কে মৃত্যুবরণ করতে হয়, তবে তাও ভালো। কিন্তু ব্রাহ্মণকে অনুকরণ করে অহিংসার অাচরণ করা উচিত নয়।
.
অপরদিকে শ্রীগীতার ১৮/৪৭ এ এর সুন্দর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে---
→যে মানুষ শূদ্রের কাজকর্মের দিকে আকৃষ্ট হয়, তবে সে কৃত্রিমভাবে নিজেকে ব্রাহ্মণ বলে জাহির করতে পারবেনা, যদি সে ব্রাহ্মমণ পরিবারে জন্ম হলেও নয়।  এভাবেই স্বভাব অনুসারে কাজকর্ম করা উচিত, কোন কাজই ঘৃণ্য নয় যদি সেটা ভগবানের সেবার জন্য অনুষ্টিত হয়। ব্রাহ্মণের বৃত্তিমূলক কর্ম অবশ্য স্বাত্ত্বিক।  যদি কেউ সত্ত্বগুণ সম্পন্ন না হন তবে ব্রাহ্মনের কর্মকে অনুসরণ করা উচিত নয়। ক্ষত্রিয় বা শাসককে কতো রকমের ভয়ানক কাজ করতে হয়, তাকে হিংসার আশ্রয় নিয়ে শত্রুকে হত্যা করতে হয়, কুটনীতির খাতিরে মিথ্যাও বলতে হয় , এই ধরনের হিংসা চলনা রাজনীতিরর মধ্যেই থাকে। তাি বলে ক্ষত্রিয়ের স্বধর্ম ত্যাগ করে সে ব্রাহ্মনের ব্রাহ্মনের স্বধর্ম অনুকরণ করতে পারেনা। পরমেশ্বরের প্রীতির জন্যই কর্ম করা উচিত, যেমনটা অর্জুন করেছে। ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে লাভ করতে হলে ব্যবসায়ীকে কতো মিথ্যা বলতে হয়,  যদি সে মিথ্যা না বলে তবে সে ব্যবসায়ে লাভ করতে পারবেনা । ব্যবসায়ী কখনও বলে "ও বাবু, আপনার জন্য আমি কোন লাভ করছিনা, কিন্তু সকলেরই জানা উচিত যে লাভ না করে ব্যবসায়ী বাঁচতে পারেনা। সুতরাং ব্যাপারী বললো যে সে লাভ করছেনা, সেটাকে নিছক কথা বলেই ধরে নিতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত স্বরুপ এখানে বলা যায় যে, প্রত্যেকের উচিত তার স্বাভাবিক গুন অনুসারে নিয়োজিত থাকা।
.
.
Writer and Editor Kanchan Das

শুক্রবার, ১২ মে, ২০১৭

সনাতন ধর্ম সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের দাঁতভাঙ্গা জবাব

বর্তমানে অনলাইনে কিছু জ্ঞানপাপীর আগমন হয়েছে তারা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপপ্রচার করে।
তাদের অন্যতম নিকৃষ্ট একটি লেখা যেখানে তারা শুরুতেই বলে দেই "হিন্দু ভাইয়েরা মন খারাপ করবেননা আমি শুধু জানতে চাই"
এই লেখাটা হলো একধরনের ভাঙ্গা ক্যাসেট এর মতো, আর ঐ সমস্ত জ্ঞানপাপীরা হলো রেডিও এর মতো, শুধু বলেই যাবে কারো কথা শুনতে চায় না।
তাই তাদের সেই লেখাটার বিরুদ্ধে লেখা অতীব জরুরী বলে মনে করি।
কেননা সবাই তো অার সত্যটাকে বের করতে চায় না।
.
আসুন তাদের অপপ্রচারের জবাবটা দিয়ে দিই----
----------------------------------------
★তাদের দাবি---
রিগবেদ অধ্যায়-৩, খন্ড-৩১, শ্লোক: ১-২ ‘‘পিতা
তার মেয়ের সাথে অশ্লীলকর্মে
লিপ্ত’’- =>এছাড়া মা- ছেলে দূষ্কর্ম,
এমন বিশ্রি বর্ণনা যেই গ্রন্থে তা কি
করে সৃষ্টিকর্তার বাণী হতে পারে?
.
★আমার জবাবঃ- তাদের এই দাবিটা পড়েই এদের দৌড় সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে গেছে, কেননা ঋকবেদে অধ্যায় : খন্ড : শ্লোক -দিয়ে কোন মন্ত্র নেই,ঋগবেদে মন্ত্রগুলো সুক্ত ও মন্ডলে বিভক্ত। তবুও তাদের সেই রেফারেন্স অনুসারে ঋগ্বেদে পেলাম---
→ শাসদ্বহির্দুর্হিতুর্নপ্তাং গাদ্ধিদ্ধাঁ ঋতস্য দীধিতিং সপর্য্যন।
→পিতা যত্র দুহিতুঃ সেকমৃঞ্জন্ সং শগ্ম্যেন মনসা দধম্বে।।
(ঋগ্বেদ-- ৩/৩১/১)
.
★অনুবাদ- “ঐ আত্মহীন পিতা, যে পরিবারের ধারক(পোষক), নির্দেশ করে তার নাতি(পুত্র তুল্যা)যে তার কন্যার সন্তান এবং যজ্ঞ করার দক্ষতার উপর আস্থা রাখে, সন্মানক(তার জামাই কে)নানাবিধি উপহারের সঙ্গে, সেই পিতা বিশ্বাস করে কন্যার গর্ভধারণের উপর, নিজেকে সমর্থন করে শান্তিপূর্ণ ও খুশি মনে”
.
★ভাবার্থ- “হে মানব! যেমন একটি কন্যা পিতা হতে জন্মলাভ করে, সুতরাং এই উষা(ভোর) জন্ম নেয় সূর্য হতে, যেমন স্বামী গর্ভধারণ করাই তার স্ত্রীর, সুতরাং এই সূর্য স্থাপন করে তার বীর্য(তেজঃ) ভোরের আলোকে রশ্মি আকারে। এই উষা হল সূর্যের কন্যা তুল্য যেখান থেকে জন্ম নেই একটি পুত্র উষা লগ্নে সকালের আকারে”
.
★এটি ভোরের অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ণনাকারী একটি বেদ মন্ত্র। ভোরে উদিত সূর্য রশ্মি হল এখানে “বীর্য” অর্থ্যাৎ “সূর্যের তেজ” ।এখানে সেই মূহর্ত অর্থ্যাৎ উষালগ্ন যা অপূর্ব সুন্দর তাই নারী রূপে কল্পিত সূর্যকন্যা এবং সকাল যা আলোক তেজঃ রূপি ও পুত্ররূপে কল্পিত উষার পুত্র।
(অনুবাদ- পন্ডিত  সত্যকাম বিদ্যালংকার)

.
★তাদের দাবি --
শিব ৬০,০০০ বিবাহ করেছিল সে মারা
যাবার পর তার লিঙ্গকে পূজা করা হয়
একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায়
তার স্ত্রীর দুধ দিয়ে শিবের
গোপন অঙ্গ ধৌত করে? এটা কি
সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য? এমন কুরুচিপূর্ন
আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন কি?
.
★আমার জবাবঃ- এই দাবিটা কোথা থেকে পেয়েছে তার কোন সূত্র নেই, শিব ৬০হাজার বিবাহ করেছিল এটা কোন শাস্ত্রে আছে তা কিন্তু এরা উল্লেখ করেনি, করবেই বা কি করে, মিথ্যাবাদীরা কখনো সত্য লুকাতে পারে?
তবুও একটা কথা বলতেই হয় শিব পার্বতীকে বিবাহ করেছিলেন।
যেই সতী তিনিই আবার পরজন্মে পার্বতী।
.

সৌরপুরাণ ৫৮/১৪ এবং ৫৮/১৫ তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে---
→গৃহীহেতি শিবঃ প্রাহ পার্ব্বতী পর্ব্বতেশ্বরম্।
→তদ্ধস্তে ভগবান্ শম্ভুরঙ্গুলীয়ং প্রবেশয়েৎ।। ১৪
→ইমঞ্চ কলসং হৈমমাদায় ত্বং নগোত্তম।
→যাহি গত্বা ত্বনেনৈব তামুমাং স্নাপায় ত্বরা।। ১৫
.
★বঙ্গানুবাদ- শম্ভু, পর্ব্বতেশ্বরকে কহিলেন, -- আমি পার্বতীকে গ্রহণ করিলাম। পরে দেবীর হস্তে একটি অঙ্গুরীয় প্রদান করিয়া নগোত্তমকে কহিলেন, -- আপনি এই হৈম কলস লইয়া গিয়া সত্ত্বর ইহা দ্বারা সেই উমাকে স্নান করাইয়া দিবেন।
.
★শিবলিঙ্গ→ শিবলিংঙ্গ মানে যৌনাঙ্গ যে এই কথাটি লিখেছেন সে সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না। শিব সংস্কৃতে शिव, Siva যার বাংলা অর্থ শুভ বা মঙ্গল আর লিংঙ্গ অর্থ প্রতিক বা চিন্হ যার সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে সর্বমঙ্গলময় বিশ্ববিধাতার প্রতীক। আবার ব্যাকারনে যেটা পুরুষ বোঝায় তাকে পুঃলিংঙ্গ, যেটা দ্বারা নারী বোঝায় তাকে স্ত্রীলিংঙ্গ,যেটা দ্বারা নারী পুরুষ উভয়ই হতে পারে তাকে উভয় লিংঙ্গ ও যেটা দ্বারা জর বস্তু বোঝায় তাকে ক্লীবলিংঙ্গ বলে, কোন ভাবেই এটা যৌন অঙ্গ’কে বোঝায় না, উধারনস্বরুপ চেয়ার দেখলে বুঝি এটা একটা জর বস্তু তাই এটিকে ক্লীবলিংঙ্গ বলা হয়, তেমনি ভাবে যে কালোপাথরটি (শিবলিংঙ্গ) দ্বারা আমরা শিবকে বুঝি, তাই ওটাকে আমরা শিবলিংঙ্গ বলি, ওটা শিবের প্রতিক, বাংলাদেশের প্রতিকি যেমন বাংলাদেশের পতাকা বহন করে, তেমনি শিবলিংঙ্গ শিবের প্রতিকি বহন করে,পতাকাকে স্যালুট করলে যেমন দেশকে সন্মান করা হয় তেমনি শিব লিংঙ্গের পুজা করলে শিবের পুজা করা হয়।
.
★কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের লিখা একটা কাব্য আছে "দেবতায় মনুষ্যত্ব আরোপ" সেখানে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন অল্পবিদ্যধারী আধুনিক মানুষরা কিভাবে প্রাচীনা মানুষদের দর্শন ও চিন্তা ভাবনার বিপরীতে, মানুষের বিভিন্ন দোষ ও স্বভাবকে তারা দেবতাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে, দেবতাদের তার তাদের স্বভাবের প্রতিছবি হিসাবে দেখে বা চিন্তা করে।
এরজন্য সংস্কৃত লিঙ্গ শব্দের ৩১ টি ও সংস্কৃত যোনি শব্দের ৩৪টি আলাদা আলাদা অর্থ থাকলেও কুৎসাকারীরা প্রতিক্ষেত্রে লিঙ্গ মানে পুরুষযৌনাঙ্গ ও যোনি মানে স্ত্রীযৌনাঙ্গ ধরে বসে।
যদি শিবলিঙ্গকে অর্থগত দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা "মঙ্গলের(শিব) প্রতিক(লিঙ্গ)" হবে এবং যদি সনাতন দর্শন এর দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা “লিঙ্গশরীরের প্রতিক” হবে এবং যদি এটা আধ্যাত্ম দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা "শিবশক্তির" প্রতিক হবে, তিনটি ক্ষেত্রেই শেষে সেই একই জিনিস -"লিঙ্গশরীরের" দিকে নির্দেশ দেয়।
লিঙ্গশরীর কি?
সাঙ্খ্য, বেদান্ত ও যোগ দর্শন মতে শরীর তিন প্রকার -
১.স্থুল শরীর
২.লিঙ্গ শরীর
৩.করণ শরীর
লিঙ্গশরীর হল এক কথাই সূক্ষ বা ভৌতিক দেহ। জীবদেহের মন ও বুদ্ধির কারক হল এই লিঙ্গশরীর। ইহা কার্যগত ভাবে নাড়ী ও ষটচক্র নিয়ে গঠিত। নাড়ীর মাধ্যমে শক্তি সক্রিয় থাকে এবং ছয় চক্র - মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ ও আজ্ঞা দ্বারা সেই শক্তি নিয়ন্ত্রিত হয়। এই লিঙ্গশরীর জীবের জীবনের আধার, তাই এই লিঙ্গ শরীরটিই জীবনের প্রতিক। সাঙ্খ্য দর্শনের তত্ত্ব অনুসারে এই লিঙ্গশরীরটির সঙ্গে ২৫টি তত্ব অন্তর্ভুক্ত, যথা - পুরুষ, প্রকৃতি, বুদ্ধি, অহংকার, মন, ৫টি ইন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয়, ৫ম তন্মাত্র, ৫ম মহাভূত। পুরাণে গিয়ে এই পুরুষ শিব নামে ও প্রকৃতি মা শক্তি নামে আখ্যায়িত হয়েছে।
.
★তারপর একটা ভুল ধারনা আছে যে এই জ্ঞানপাপীরা বলে কেবল স্ত্রী লোক নাকি শিবলিঙ্গের পূজা করে।
কিন্তু তারা জানেনা নারী পুরুষ সকলেই শিবলিঙ্গের পূজা করে। তারা জানবেই বা কি করে ঐযে প্রথমেই বলেছিনা ওরা হলো রেডিও শুধু একতরফা বলে থাকে শুনেনা।

.
★তাদের দাবি --
শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে
চিনতে পারেনি গর্দান কেটে
ফেলেছিলেন তাহলে তিনি তার
সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন? ভুলে
যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য?
.
★আমার জবাবঃ- এই প্রশ্নটা শুনে একটু রাগ হয়েছিল, কেননা একজন পিতা তার সন্তানকে চিনবেনা এটা কোন ধরনের কথা, এইসব জ্ঞানপাপীরা কি সনাতন ধর্মের শাস্ত্র পড়ে পন্ডিতগিরী করে নাকি কপি মেরে মেরে পন্ডিতগিরী করে সেটা কেবল ভগবানই জানেন।
.
★তাদের প্রশ্নের উত্তরটা দিবো কেবল একটা টপিকে, "শিব কি গণেশকে চিনতো নাকি চিনতোনা???
কে কার মস্তক চিন্ন করলো এই প্রসঙ্গে যাবোনা।
কেবল প্রমাণ করবো শিব গণেশ কে জন্মের পর থেকে চিনতো যে গণেশ তাঁর পুত্র।
.
★লিঙ্গপুরাণ, পূূর্ব্বভাগ, ১১৫তম অধ্যায়ের ১১-১৪ তম শ্লোকে উল্লেখ আছে---
"সর্বেশ্বর ভগবান ভবপুত্রকে জাতমাত্র অবলোকন করিয়া তদুদ্দেশে কর্তব্য জাত-কর্ম্মানি সংস্কার স্বয়ং করিলেন। তারপর জগদীশ্বর সুকোমল হস্তদ্বারা তনয়কে গ্রহণ করিয়া আলিঙ্গন করত মস্তকে চুম্বন করিলেন"
.
এই থেকে প্রমাণ হয়, গণেশের জন্মের পরই শ্রীশিব তাকে চিনতেন, আহারে জ্ঞানপাপীরা এখানেও তোমাদের ভওতাবাজির ইতি ঘটলো??

.
★তাদের দাবি --
দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা
চরিত্রের সাথে ভগবান ও ব্রাহ্মনগণ কি
করে অশ্লীলকর্মে লিপ্ত হন? যদি তারা
প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন?
.
★আমার জবাবঃ- এই প্রশ্নটা ততোটা গুরুত্ব বলে মনে করি না, কেননা যোগিনী কিন্তু পতিতাবৃত্তি করেছিল এরকম কোন বিখ্যাত নারী সনাতন ধর্মে ছিল না। যদি জ্ঞানপাপীরা কারো নাম নির্দিষ্ট করে বলতো তবে অবশ্যই সেটা বিশ্লেষণ করতাম।
কিন্তু তারা অন্ধকারে ঢিল মারলো।
তারপর আবার বললো ভগবান ও ব্রাহ্মণগণ কোন অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হলো।
কিন্তু বললোনা কে করলো?
কোন ব্রাহ্মণ সেটাই তো জানলাম না, যদিওবা কোন ব্রাহ্মন করে থাকে তবে সেটা সনাতন ধর্মের কি দোষ???
ব্রাহ্মন এর কথায় কি সনাতন ধর্ম চলে???
সনাতন ধর্মতো ঈশ্বর প্রেরিত পবিত্র বেদ এবং শ্রীগীতার আলোকে চলে।
মানুষের মধ্যে যদিও কেউ খারাপ কাজ করে তবে ধর্মের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ সনাতন ধর্ম সর্বদাই মানুষকে সঠিক পথে চলতে বলে।
.
★তাদের দাবি →অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ নারী, মুখে ও
দাঁতে রক্ত ও হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার
কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে?
উদাহরন- দূর্গা।
.
★আমার জবাবঃ- এরা এতোটাই বিকৃত মস্তিষ্কের হতে পারে তা অকল্পনীয়। এদের মাথাতে সর্বদা অশ্লীলতা ঘুরাপাক খায়, সেইজন্য সবকিছুতেই অশ্লীলতা খুজে পায়।
সনাতন শাস্ত্রে দূর্গা শব্দটিকে বিশ্লেষন করা হয়েছে এভাবে---
★দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ।
★উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।।
★রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
★ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।।
.
★ অর্থাৎ, ""দ" অক্ষরটি দৈত্য বিনাশ করে, উ-কার বিঘ্ন নাশ করে, রেফ রোগ নাশ করে, "গ" অক্ষরটি পাপ নাশ করে এবং অ-কার শত্রু নাশ করে। এর অর্থ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।"
.
★অন্যদিকে শব্দকল্পদ্রুম বলেছে, "দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা"। অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি সব সময় দুর্গা নামে পরিচিত।
.
★অসুরেরা মা দূর্গাকে দেখে ভয় পায়, কিন্তু এই জ্ঞানপাপীরা যদি মা দূর্গাকে দেখে যদি ভয় পায় তবে আমার কিছু করার নেই।
.
★তাদের দাবি -- কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা
হয় তবে সে কেন তার মামীর সাথে
অবৈধ সম্পর্ক রাখলো? তবে কি
সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন অবৈধ
কর্মে লিপ্ত হয় যা তার নিজেরই
আইনের বর্হিভূত?
.
★আমার জবাবঃ-
→এই জ্ঞানপাপীরা কিন্তু রেডিওর মতো সেটা প্রমাণ হয়েই যাচ্ছে।
তা না হলে দেখেন শ্রীকৃষ্ণ নাকি মামির সাথে প্রেম করেছে???
কিন্তু কোনো রেফারেন্স তো দেয়নি উল্টো পরমেশ্বরের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। জাহান্নামে যাবিরে জ্ঞানপাপীরা।
.
★আমরা সকলেই এই কথাটা ভালো করেই জানি যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকী এবং বসুদেবের সন্তান রুপে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন। (শ্রীমদ্ভাগবত → ১০/৩/৮)
যিনি দেবকীর ভাই তিনিই শ্রীকৃষ্ণের মামা এটাই স্বাভাবিক।
দেবকী ছিলেন দেবক এর কন্যা(ভাগবত-১০/১/৩১)
এবং কংস ছিলেন দেবকীর খুল্লতাত বা কাকাতো ভাই (ভাগবত- ১০/১/৩০)
কংসের ছিলেন দুই স্ত্রী অস্তি এবং প্রাপ্তি।
তাহলে পুরোটা ক্লিয়ার যে কংসের স্ত্রীর সাথে শ্রীকৃষ্ণের কোন সম্পর্ক নেই।
আর বাকী থাকে রাধা, রাধা সঙ্গে কংসের বিবাহ হয়নি সেটা ওপরের ব্যখ্যা থেকেই জেনেছি, কেননা রাধার সঙ্গে কংসের কোন দিন দেখায় হয়নি, যার সাথে দেখা হয়নি তার সাথে বিবাহ হবে এটা যৌক্তিক কতোটুকু সেটা আপনারাই বিবেচনা করবেন।
.
★তাদের দাবি -- কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে কারণ সে
প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম
গেছে, বিয়ে করেছে
দৈহিক তাড়নায়, রাম নিজের স্ত্রীকে
সন্দেহ করেছে এসব কি সৃষ্টিকতার কর্ম?
যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি
হনুমানের সাহায্য চাইবেন? তাহলে
কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে?
.
★আমার জবাবঃ-
শ্রী রাম হচ্ছে ঈশ্বরের ৭ম অবতার।তিনি মানুষ রুপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। সুতরাং মানুষের মত কাজকর্ম রাম করেছিলেন কারন তিনি মানুষ কিন্তু ঈশ্বরের অবতার। শ্রীমদভগবত গীতার ৯:১১ তে ভগবান বলেছেনঃ আমি যখন মানুষ রুপে অবতীর্ন হই,মুর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে তারা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত হন না, এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।। অর্থাৎ ভগবান মানুষরুপে পৃথিবীতে অবতীর্ন হতে পারেন।
শ্রীরাম মানুষরুপে অবতীর্ণ হয়েছেন তাই মানুষের মতো বেচে ছিলেন এই ধরাধামে, এতে অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই জ্ঞানপাপীগণ।
.
★শ্রীরাম কি মাতা সীতাকে সন্দেহ করেছিল??
.
★জ্ঞানপাপীরা তোমরা নিজেরাই দেখো --- বাল্মীকি রামায়ন কি বলে---
.
★पश्यतस्तां तु रामस्य समीपे हृदयप्रियाम् |
★जनवादभयाद्राज्ञो बभूव हृदयं द्विधा||६-११५-११
Valmiki Ramayana 6.115.11 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "শ্রী রাম লক্ষ্য করলেন সীতা দেবী কে নিয়ে কিছু লোক কুত্সা রটিয়ে বেড়াচ্ছে এর জন্য সীতা দেবী মন দুঃখী"।
.
★पृथक्स्त्रीणां प्रचारेण जातिं त्वं परिशङ्कसे |
★परित्यजेमां शङ्कां तु यदि तेऽहं परीक्षिता
||(६-११६-७)
Valmiki Ramayana 6.116.7 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "শ্রী রাম সীতা দেবী কে বুজাচ্ছেন এক অভদ্র মহিলার আচরণ দ্বারা আপনি দুঃখী হয়েন না"
.
★त्वया तु नरशार्दूल क्रोधमेवानुवर्तता |
★लघुनेव मनुष्येण स्त्रीत्वमेव पुरस्कृतम् ||
६-११६-१४
Valmiki Ramayana 6.116.14 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "সীতা দেবী শ্রী রাম কে বুজাচ্ছেন তিনি দুর্বল ও আবেগে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ও
womanliness অগ্রাধিকার দিয়েছেন"
.
★चितां मे कुरु सौमित्रे व्यसनस्यास्य भेषजम् |
★मिथ्यापवादोपहता नाहं जीवितुमुत्सहे ||
६-११६-१८.
Valmiki Ramayana 6.116.18 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "সীতা দেবী মিথ্যা দোষারোপ থেকে মুক্ত হবার জন্য লক্ষ্মণ কে আদেশ দিচ্ছে আগুনের চিতা তৈরী করার জন্য"
.
জ্ঞানপাপীরা এবার বুঝলে তো তোমাদের জ্ঞানের পরিধি কতোটুকু???
শ্রীরাম মাতা সীতাকে সন্দেহ করেনি।

.
★তাদের দাবি --
রাম হনুমানের দুই ভাইকে কেন অকারনে
খুন করলেন যেখানে রামের সাথে
তাদের কোন শত্রুতা ছিলনা?
সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব?
.
★আমার জবাবঃ- রাম হনুমানের ভাইকে হত্যা করেননি। হত্যা করেছেন সুগ্রীবের ভাই বালিকে।কারণ বালি সুগ্রীবের স্ত্রীকে বন্ধি রেখেছিলো, এবং সুগ্রীবকে ধন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল বালি। আর বালি ছিলো একজন দুরাচারী শাসক। অধার্মিকদের দন্ড প্রধানের জন্য এবং সাধুদের রক্ষার জন্য ঈশ্বর অবতার রুপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
.
★তাদের দাবি --
রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে
লঙ্কায় পৌঁছাতে পারে তবে রাম
সৃষ্টিকর্তা হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো
তাও আবার হনুমানের সাহায্যে?
শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি
করে বেশি হওয়া সম্ভব?
.
★আমার জবাবঃ- শ্রীরাম সমুদ্র পার হয়েছেন সমগ্র বানর সেনা নিয়ে। বানর সেনারা শ্রীরামকে সহায়তা করতে চেয়েছিল, অার ভগবান সর্বদা ভক্তদের অভিলাষ পূরণ করেন সেটা অার নতুন কিসের???
অার সমুদ্র পার হতে ১২ বছর লাগেনি। শ্রীরাম ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিল----
★বাল্মীকি রামায়ণ-- অযোধ্যা কান্ড, ১১তম সর্গের ২৬ তম শ্লোকে কৈকয়ী দশরথকে বলেছেন " "Rama has to take refuge in the forest of Dandaka for fourteen years and let him become an ascetic wearing rags, deer skin and matted hair"
এখানে স্পষ্ট ক্লিয়ার শ্রীরামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনে পাঠানোর জন্য বলতেছে"।
এবং অযোধ্যা কান্ডের,১৯ তম সর্গের, ২নং শ্লোকে শ্রীরাম বলতেছেন---
★ एवम् अस्तु गमिष्यामि वनम् वस्तुम् अहम् तु अतः |
★जटा चीर धरः राज्ञः प्रतिज्ञाम् अनुपालयन् || २-१९-२
.
★Translation --- "Let it be, as you said it. I shall fulfil the king's promise, go to the forest from here to reside there, wearing braided hair and covered with a hide."
.
অর্থাৎ শ্রীরাম বনে যাওয়ার ব্যপারে না বলেননি।
.
এখানে স্পষ্ট ক্লিয়ার রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিল, সমুদ্র পার হতে ১৪ বছর লেগেছিল সেটা মিথ্যা কথা।
.
★তাদের দাবি --
কৃষ্ণা সৃষ্টিকর্তা হয়ে কিভাবে নারীদের
স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করেন ও তাদের
পোষাক লুকিয়ে রেখে দেন?
.
★আমার জবাবঃ-   শ্রীকৃষ্ণ কি নারীদের স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করতে ছিলো সেটা  এই লেখাটি পড়লে বুঝতে পারবেন।
.
তবুও আপনাদের জন্য কয়েকটা প্রমাণ দিচ্ছি যেটার মাধ্যমে বুঝতে সহজ হবে---
★ভাগবত:- ১০/২২/৮
"পরীক্ষিত বললেন- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন যোগেশ্বরগণেরও ঈশ্বর, তার অজানা কোন কিছুই ছিলনা। তিনি তাদের(গোপী) মন বাসনা সফল করার জন্য বয়স্য পরিবৃত হয়ে সেই যমুনাপুলিনে আগমন করলেন। "
.
★ভাগবত:- ১০/২২/৯
"তীরে পরিত্যক্ত গোপ কন্যাদের বস্ত্রগুলি সংগ্রহ করে তিনি সহ একটি কদম বৃক্ষের ওপর আরোহন করলেন এবং তার সঙ্গী বালকেরা এই কৌতুক দেখে হাসতে লাগলো এবং তিনিও হাসতে লাগলেন এবং কুমারীদের পরিহাস করতে বলতে লাগলেন।
.
এখানে কিন্তু উপভোগ করার কোন কথায় নেই, কাপড় নিয়ে তৎক্ষনাৎ গোপীদের সেটা বলেও দিয়েছে।
.
আবার কি কারণে কাপড় গুলি নিয়েছে সেটা হলো---
★ভাগবত:- ১০/২২/১৯
"প্রিয় গোপীকাগণ তোমরা যে ব্রত গ্রহণ করেছিলে তা অত্যন্ত নিষ্টার সঙ্গে পালন করেছো তাতে কোন সন্দেহ নেই, অজ্ঞানতই তোমাদের একটা ক্রুটি ঘটে গিয়েছে, ব্রত পালনকালে জলে বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা ভালো নয়, এতে জলের দেবতার(বরুন) প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, তাঁর কাছে অপরাধ হয়, সুতরাং তোমরা পাপ মোচনের জন্য তার কাছে জোড়হাত মাথায় ঠেকিয়ে তাকে প্রণাম করে নিজেদের কাপড় নিয়ে যাও।"
.
এই শ্লোক অনুসারে সমগ্র মানব সমাজ একটি শিক্ষা পেলো সেটা হলো বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা ধর্ম বিরুদ্ধ কাজ।
এখানে কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ একা ছিলেননা, ভাগবত ১০/২২/২২ অনুসারে সেখানে বয়স্যরাও ছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে শ্রীকৃষ্ণ একাই ছিলেন।
কিন্তু পুরো ঘটনাটাই বিপরীত।
সেখানে প্রথমত শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন, দ্বিতীয়ত গোপ বালকেরা ছিলেন, তৃতীয়ত জলের দেবতা বরুনদেব ছিলেন এবং চতুর্থত ঘটনার শেষের দিকে বয়স্যরাও ছিলেন।
তাই জ্ঞানপাপীরা সাবধান হও, তা নাহলে মিথ্যাবাদী প্রমাণ হতেই থাকবে।
.
.
Writer and Editor Kanchan Das

সনাতন ধর্মই আইনের শাসনের উৎস

✅সনাতন ধর্ম ও অাইনের শাসন: ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖ *️⃣ অাইন ব্যবস্থা হলো একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড স্বরুপ। অাইনের দ্বারা যেকেনাে দেশের রাষ্ট্রীয় বিধিবি...